ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মুখে, বাজেট বক্তৃতায় এমপি রেজা কিবরিয়ার সতর্কবার্তা

প্রিন্ট
ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মুখে, বাজেট বক্তৃতায় এমপি রেজা কিবরিয়ার সতর্কবার্তা
অডিও নিউজ
স্বয়ংক্রিয় পাঠ—ডিভাইসের সেরা উপলভ্য ভয়েস ব্যবহার করবে।
00:00 00:00
অডিও প্রস্তুত।

ভাইরে ভাই!! ইতিহাসে প্রথমবার মনে হয় সরকার দলের এমপির বক্তৃতায় বিরোধী দল খুশি হয়ে তালি দিছে। 😑

BNP-এর সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া-র বাজেট নিয়ে সমলোচনা করে নিজের দলকেই ধুয়ে দিলেন।
রেজা কিবরিয়া বলেন,

বিশ্বের ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। কোনো দেশের ব্যাংকিং সূচক ৬ পার হলে আমরা চিন্তিত হয়ে যেতাম, আর বাংলাদেশে সেই সূচক আজকে ৬১! পুরো ব্যাংকিং সিস্টেম ধ্বংসের মুখে।

​সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাত্র ৫% সুদে আমানত বা টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো সৎ ব্যবসায়ী যখন লোন নিতে যাচ্ছেন, তাকে দিতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ সুদ!

​এই বিশাল ফারাকের কারণে দেশের সৎ ও আসল ব্যবসায়ীরা কোনো ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যাংকিং খাত যদি দক্ষ হতো, তবে ঋণের সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকতো।

এমপি সাহেব ফাঁস করে দিলেন কীভাবে ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
আগে নিয়ম ছিলো, ৯০ দিন কোনো ঋণের কিস্তি বা সুদের টাকা না দিলে তাকে ঋণখেলাপি বা ডিফল্টার বলা হতো। কিন্তু এখন অদ্ভুত নিয়মে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ বছর!
অর্থাৎ, টানা এক বছর ব্যাংকের টাকা মেরে বসে থাকলেও তাকে আর খেলাপি বলা হচ্ছে না! এই খেলাপি সংস্কৃতির কারণেই ব্যাংকিং খাত পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিটি অফ গ্রোথ’ বলে একটা কথা আছে।
আপনি যদি নতুন ফ্যাক্টরি বা উৎপাদনশীল খাতে টাকা লাগান, তবেই দেশের আসল প্রবৃদ্ধি বা গ্রোথ বাড়ে।
কিন্তু তা না করে যদি শুধু শপিং মল আর ৭০০০ স্কয়ার ফিটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বানানো হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে কোনো কাজে আসে না। এর ফলে উল্টো কেবল মুদ্রাস্ফীতি আর সুদের হারই বাড়ে।

বিগত ১৫ বছরের ইতিহাস টেনে তিনি দেখান,
আমাদের দেশের রাজস্ব আদায়ের হার কোনোদিনই লক্ষ্যমাত্রার ৮০-৮৪ শতাংশ ছুঁতে পারেনি, সর্বোচ্চ ছিলো ৭০ শতাংশ।
অথচ প্রতি বছর বাজেটে একটা আকাশকুসুম ও কাল্পনিক লক্ষ্যমাত্রা ধরে বাজেট তৈরি করা হয়!

​আর এই শেষ মুহূর্তের ঘাটতি মেটাতে সরকার তখন মরিয়া হয়ে ব্যাংক এবং বিদেশ থেকে ঋণ নেয়। বৈদেশিক উৎস থেকে এভাবে ঋণ নেওয়া সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ এটি দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আগুন জ্বালিয়ে দেয়! টাকা দেদারসে খরচ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু খরচের মান একদম শূন্য!

​জিডিপির ৪০% ঋণ আর ২০% ডেট সার্ভিসিং নিয়ে দেশ এই মুহূর্তে যেভাবে চলছে, তাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়া হবে চরম আত্ম* ঘা* তী ও বোকামি!
ঋণ নিতে হলে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর মতো দীর্ঘমেয়াদী সংস্থা থেকে নেওয়া উচিত, যেখানে সুদের হার মাত্র আধা বা এক পার্সেন্ট থাকে এবং শোধ করার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়।

​সবশেষে তিনি সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, বড় বড় বাবুরা এসি রুমে বসে আয়ের সুষম বণ্টন নিয়ে কত বড় বড় বক্তৃতাই না দেন! কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। একজন দিনমজুরের দৈনিক বেতন যদি ১৪০ টাকা হয় আর চালের দাম যদি ২০ টাকা কেজি হয়, তবে সে ৭ কেজি চাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।
এই রেশিওটাই হলো দেশের আসল অর্থনীতি, যা এখন ভেঙে পড়েছে।

আপনি যদি একজন কোটিপতির হাতে ১০,০০০ টাকা দেন, সে সেটা খরচ না করে ব্যাংকে রেখে দেবে। কিন্তু একজন গরিব মানুষকে যদি ১০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়া হয়, সে সাথে সাথে বাজারে গিয়ে সেটা খরচ করবে।
ফলে অর্থনীতি সচল হবে! অথচ প্রান্তিক মানুষের এই আর্থিক সহায়তার দিকেই সরকারের কোনো নজর নেই।

বাপরে! সরকার দলের লোক হয়েও সরকারের এমন সমালোচনা!!! দল বড় কথা নয়, দেশের স্বার্থই বড় কথা আজ এই এমপি সাহেব সেটাই প্রমাণ করলেন।
সবার মুখে এমন সত্যি কথা ফোটা উচিত।🌻

Facebook Comments Box

অটো ফটো কার্ড

একটি পেশাদার standard social-news card।

1080 × 1080 px
ফটো কার্ড এখনো তৈরি হয়নি দেওয়া sample-এর মতো square HD card তৈরি হবে।
অটো ফটো কার্ড
নিচের বিজ্ঞাপন ব্যানার সাইটের বর্তমান horizontal banner স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ভিডিও গ্যালারি প্রিন্ট