জেবা আমিনা খান হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-১২ এর সদস্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।সংসদীয় কার্যক্রম ও আলোচনা১৬ জুন, ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মিশ্র ভাষার (বাংলা ও ইংরেজি) ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময় শেষে বাড়তি বক্তব্য চাওয়া নিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।বক্তব্য ও বিতর্ক: সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার জন্য বিগত সরকারের দুর্নীতিকে দায়ী করেন। বক্তব্যের একটি পর্যায়ে তিনি বাংলায় না বলে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করেন, যার ফলে সংসদে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
স্পিকারের মন্তব্য: নির্ধারিত আট মিনিটের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরও তিনি আরও বাড়তি সময় চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন, “আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন”।
বাড়তি সময় শেষ, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করুন-সংসদে স্পিকারের পরামর্শে আলোচনায় জেবা আমিন
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় চাইলে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিন খানকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্পিকার তাকে আগামী অধিবেশনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে। সেদিন ঝালকাঠি-২ (সদর–নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বক্তব্য শুরু করেন। সময় শেষ হওয়ার পর তিনি অতিরিক্ত সময় চান, কিন্তু সেটিও শেষ হয়ে গেলে আবারও বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
এই পরিস্থিতিতে সংসদের অধিবেশন পরিচালনাকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে সময় শেষ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং মন্তব্য করেন, “আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন।” তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সংসদে হালকা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্যকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে হয়, যাতে সকল সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। ওই অধিবেশনেও সময় বণ্টনের নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে জানা যায়।
জেবা আমিন খান এর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আলোচনায় ছিলেন। তার মনোনয়ন ও প্রার্থিতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির সমর্থনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
স্পিকারের মন্তব্যটি নিয়ে সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে নিয়ম শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে দেখলেও, অনেকে বিষয়টিকে হালকা রসিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন