যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প
প্রতিদিনের একটি অভ্যাসই একদিন হয়ে উঠল একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর কারণ।
নিয়মিত এক কাস্টমার
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের সেলেম শহরের বাসিন্দা কির্ক আলেকজান্ডার প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতি রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে একই ডমিনোজ শাখা থেকে খাবার অর্ডার করতেন। পিৎজা, উইংস কিংবা স্যান্ডউইচ—খাবার বদলালেও অভ্যাসটা কখনো বদলায়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দোকানের কর্মীদের কাছে এক পরিচিত মুখ।
হঠাৎ নীরবতা
২০১৬ সালের এক দিন সেই নিয়ম হঠাৎ ভেঙে গেল। একদিন, দুইদিন করে কেটে গেল টানা ১১ দিন—কোনো অর্ডার এল না কির্কের কাছ থেকে। বিষয়টা সাধারণ মানুষের চোখে তুচ্ছ মনে হলেও, স্টোর ম্যানেজার সারা ফুলারের কাছে তা ছিল স্পষ্ট এক সতর্কসংকেত। কির্কের শারীরিক সমস্যার কথা জানা থাকায় তিনি বুঝলেন, কিছু একটা ঠিক নেই।
মধ্যরাতের সিদ্ধান্ত
রাত প্রায় ১টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—একজন ডেলিভারি ড্রাইভারকে পাঠানো হবে কির্কের বাড়িতে। গিয়ে দেখা গেল, ঘরে বাতি জ্বলছে, টিভি চলছে, কিন্তু দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া নেই। ফোনেও কেউ ধরছে না। দেরি না করে ড্রাইভার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।
সময়মতো উদ্ধার
পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পায়, কির্ক মেঝেতে পড়ে আছেন—স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে সাহায্যের অপেক্ষায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকদের মতে, আর একটু দেরি হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।
“তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন”
সুস্থ হওয়ার পর ডমিনোজের কর্মীরা ফুল নিয়ে কির্ককে দেখতে যান। সেই সময় স্টোর ম্যানেজার বলেছিলেন, তাদের কাছে কির্ক শুধু একজন কাস্টমার নন, বরং পরিবারের একজন সদস্যের মতো।
আজকের দিনে যেখানে অনেকেই পাশের বাসার খোঁজও রাখেন না, সেখানে একটি পিৎজার দোকানের কয়েকজন কর্মীর সামান্য সতর্কতাই ফিরিয়ে দিয়েছিল একটি জীবন। বড় কোনো অলৌকিক ঘটনা লাগে না মানুষ বাঁচাতে—লাগে শুধু একটু খোঁজ নেওয়া, একটু দায়িত্ববোধ আর একটু মানবিকতা।
মন্তব্য করুন