বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন সংসদীয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন ১৯৯৬ সালে। ইতোমধ্যে নতুন মন্ত্রিপরিষদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন।
এর আগে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হন। তবে ওই সংসদ স্বল্পস্থায়ী হওয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ জুন ১৯৯৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
দলের ভেতরে স্বপনের উত্থান ঘটে তথ্য ও যোগাযোগভিত্তিক সংগঠক হিসেবে। ২০০১ সালের দিকে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরে তিনি দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক, কমিউনিকেশন সেলের প্রধান সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দল সংস্কারের প্রস্তাব সমর্থনের অভিযোগে তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। সে সময় দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া সংস্কার উদ্যোগে সমর্থন দিলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অবস্থান বদলে তাকে বহিষ্কার করেন। প্রায় এক দশক দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার পর বিএনপির দুর্দিনে তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তিনি দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে স্বপন জয়ী হন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানের ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ২৮৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনেই বিএনপি জয় পায়।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও আন্দোলনের সময় একাধিকবার তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে নিজের পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ করেন। ২০২২ সালে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিবিরোধী সমাবেশের আগে শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হয়ে একাধিক মামলায় রিমান্ড ও কারাবরণ করেন। পরে ২০২৪ সালের ১ মার্চ জামিনে মুক্তি পান।
মন্তব্য করুন