সেলসম্যান থেকে নোমান গ্রুপের প্রতিষ্টাতা নুরুল ইসলাম | bdsaradin24.com
বিশেষ প্রতিনিধি
১৩ জানুয়ারী ২০২৫, ৪:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সেলসম্যান থেকে নোমান গ্রুপের প্রতিষ্টাতা নুরুল ইসলাম

ভাগ্য বদলের আশায় পকেটে ৬৫ টাকা নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়। দিনের পর দিন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন ইসলামপুরের দোকানে। সেলসম্যান থেকে তিলে তিলে গড়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। বিক্রয়কর্মী থেকে নোমান গ্রুপ তৈরীর এ গল্পটা নুরুল ইসলামের। যার গল্প এখন লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণার।

১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় সওদাগর মোহাম্মদ ইসমাইল ও আঞ্জুমান আরা দম্পত্তির ঘরে জন্মেছিলেন নুরুল ইসলাম। পাঁচ বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। মাত্র ৫ বছর বয়সে পিতৃহারা নুরুল ইসলামকে বহু কষ্টে মা পড়াশোনা করান। অভাব অনটনের মাঝেই ১৯৬৮ সালে তিনি আধুনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন।

এরপরই পারিবারিক অনটনে তিনি ভাগ্যান্বেষণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা চলে আসেন। ঢাকায় তৈয়ব আশরাফ টেক্সটাইল মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ফ্যাব্রিকস, নাজনীন ফ্যাব্রিকস নামের আরো প্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত ক্যারোলিন গেঞ্জি, মশারি, ওড়না এবং পলিয়েস্টার কাপড় ইত্যাদি পণ্য বিক্রি করতেন নুরুল ইসলাম। থাকতেন খিলগাঁওয়ের একটি মেসে।

এরমধ্যে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে নিজের পছন্দে পণ্য তৈরি করে তা বিক্রি করতেন ইসলামপুর বাজারে। দিনের একবেলা টঙ্গী-তেজগাঁওয়ের বিসিক এলাকা, তো আরেকবেলা ইসলামপুর কিংবা নারায়ণগঞ্জ। হয়ে উঠেন ফ্লাইং বিজনেসম্যান।

এর মধ্যে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ফিরতে হয় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিজ গ্রামে। ওই বছর বিয়েও করেন। যুদ্ধ শেষে আবার ফিরে আসেন কর্মস্থলে। নতুন করে শুরু করেন সবকিছু। ব্যাংকঋণের কারণে মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ও নাজনীন ফ্যাব্রিকসের আর্থিক অবস্থা ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। তখন এসব প্রতিষ্ঠান ভাড়ায় নেন নুরুল ইসলাম। শুরুতে মশারি ও গেঞ্জির কাপড় তৈরি করতেন।

১৯৭৬ সালে পাওনা ঋণ আদায়ে এসব কারখানা একে একে নিলামে তোলে ব্যাংক। নিলামে অংশ নিয়ে যন্ত্রপাতিসহ কারখানাগুলো কিনে নেন তিনি। ১৯৭৬ সালে প্রথম আরটেক্স ফ্যাব্রিকসের চারটি মেশিন কিনেন তিনি। বিনিয়োগ করেন ৮ লাখ টাকা। তখন সেখানে কর্মরত ছিলেন ২২ জন শ্রমিক। এরপর একে একে কেনেন মরিয়ম টেক্সটাইল, নাজরীন ফ্যাব্রিকসের যন্ত্রপাতি। এ তিন প্রতিষ্ঠানের মোট ১২টি মেশিন নিয়ে শুরু হয় উদ্যোক্তা হিসেবে নুরুল ইসলামের যাত্রা।

মাত্র ২২ জন শ্রমিক নিয়ে ১৯৭৬ সালে শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে নুরুল ইসলামের পথচলা শুরু। বর্তমানে তাঁর গড়ে তোলা নোমান গ্রুপের কর্মীর সংখ্যা ৮০ হাজারের বেশি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের গুঞ্জন

একমি ল্যাবরেটরিজের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগপত্রঃ একটি জটিল এবং ধূর্ত মনস্তাত্ত্বিক দলিল!?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কীভাবে

ফার্মেসী ব্যবসার জন্যে লাইসেন্সসহ যা যা লাগবে

নতুন ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ধাপ: কীভাবে করবেন ড্রাগ লাইসেন্স?

১০

পঞ্চদশ সংশোধনী: কেন এসেছিল, কী বদলেছিল, কেন আবার আলোচনায়?

১১

ইতিহাস ও নিসর্গের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘বলধা গার্ডেন’

১২

যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প

১৩

বন্যা ও পানিতে ডুবে মৃতদের দাফনের নিয়ম

১৪

সোনালী অতীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিরাজুল ইসলাম ও রানী সরকার

১৫

হালান্ডকে নিয়ে অজানা কিছু কথা

১৬

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

১৭

মুক্তচিন্তার পথিক: মুস্তাফা মনোয়ার

১৮

পাসপোর্ট এল কেমন করে

১৯

পাসপোর্টের কোন রং দিয়ে কী বোঝায়

২০