ঢাকারবিবার , ১০ জুলাই ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস ঐতিয্য
  3. ইসলাম
  4. কর্পোরেট
  5. খেলার মাঠে
  6. জাতীয়
  7. জীবনযাপন
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নারী কন্ঠ
  11. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  12. ফার্মাসিস্ট কর্নার
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন

বাঙালিছাত্রদের গণিত শিল্পী কে সি নাগ

ডেস্ক নিউজ
জুলাই ১০, ২০২২ ৩:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লেখকের নাম ‘ কে সি নাগ ‘,কারও কাছে কে সি নাগের অঙ্ক যেন বড় শাস্তি ৷ আবার সেই অঙ্কের সমাধান নিজের হাতে কষা বিরাট এক অ্যাচিভমেন্ট ৷

তাঁর অঙ্কগুলো দেখে প্রাথমিক ভাবে অনেক নিরীহ পড়ুয়ার হয়ত মনে হয় যেন দাঁত-মুখ বের করে কামড়াতে আসছে! দাঁত ফোটানো যায় না এমন সব সংখ্যা, ভগ্নাংশের হিসেবপত্তর। চৌবাচ্চায় দুটো নল, একটা দিয়ে অমুক সময়ে তমুক বেগে জল ঢুকছে, তমুক বেগে অমুক সময়ে বেরোচ্ছে। তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠতে-নামতে বাঁদরটা কাহিল। মুদির চালে কাঁকর, গোয়ালার দুধে জল মেশানোর নিদারুণ অনুপাত। সমান্তরাল রেললাইনে কত ট্রেন আসছে-যাচ্ছে, কত স্টেশনে দেখা কতশত রেলগাড়ির। ওদের নিয়ে আঁক কষার কী আছে!

বাঙালি অঙ্কের নাম শুনলেই আজো তাঁকে পেন্নাম ঠোকে ৷ চৌবাচ্চা দিয়ে জল বেরোচ্ছে আর ঢুকছে ৷ তেলমাখা বাঁশে বাঁদর উঠছে আর নামছে ৷ সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে ৷ প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে গতিময় ট্রেন‚ তাহলে ট্রেনের দৈর্ঘ্য কত হবে ? গড়পড়তা ছাত্রদের কাছে বোধহয় প্রথমদিকে একটু কঠিন মনে হত তাঁর অঙ্কগুলো! অথচ নিজে জন্মেছিলেন ১৩০০ সালে, ঠিক ১২৯ বছর৷ ‘রাউন্ড ফিগার’ হলে কত সহজ হয়ে যায় যোগ-বিয়োগগুলো!

হুগলির গুড়াপের নাগপাড়ায় জন্ম তাঁর, ১৮৯৩-এর ১০ জুলাই ৷ সেদিন ছিল রথযাত্রা ৷ সন্তানের নাম ‘কেশবচন্দ্র‘ রেখেছিলেন বাবা রঘুনাথ ৷ কিন্তু সন্তানের শৈশবেই চলে গেলেন বাবা ৷ ছেলেকে বড় করতে শুরু হল মা ক্ষীরোদাসুন্দরী দেবীর কঠিন লড়াই ৷ গুড়াপে তখন সবেধন নীলমনি একটাই স্কুল ৷ সেখানেই ভর্তি হলেন শিশু কেশব ৷

১৯১২ সালে প্রথম বিভাগে এন্ট্রান্স পাশ করে কেশব তখন কলকাতার রিপন কলেজের ছাত্র ৷ ১৯১৪ সালে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন আইএসসি ৷
এরপর যোগেশ্বর স্কুলে থার্ড মাস্টারি কিছুদিন ৷ সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনি ৷ নইলে স্কুলের সামান্য বেতনে বড় সংসার চালানো অসম্ভব ৷ কিন্তু তার মধ্যেই মনে হল শেষ করতে হবে উচ্চশিক্ষা ৷ বিজ্ঞান শাখায় না করে কেশবচন্দ্র স্নাতক হলেন অঙ্ক সংস্কৃত এবং কলাবিদ্যায় ৷ পেলেন বিএ ডিগ্রি ৷ এরপর কিষেণগঞ্জ স্কুলে গণিতের শিক্ষক ৷ পড়িয়েছিলেন বহরম পুর কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলেও ৷

তখন তাঁর ধ্যান জ্ঞান শুধুই গণিত ৷ কী করে ছাত্রদের অঙ্কভীতি দূর করা যায় ‚ কী করে গণিতকে আরও প্রাঞ্জল করে তোলা যায়‚ এই ছিল তাঁর স্বপ্ন ৷তাঁর পড়ানোর খ্যাতি ছাড়িয়ে পড়ল ৷ স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁকে নিয়ে এলেন কলকাতায় ৷ ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ৷ সেখান থেকেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন।

কেশবচন্দ্রের বাড়িতে বসত সাহিত্যিকদের আড্ডা ৷ মধ্যমণি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৷ একদিন বৈঠকী মেজাজেই কথা সাহিত্যিক প্রস্তাব দিলেন বরং বই লিখুন তিনি ৷ যাঁর ক্লাস করতে মুখিয়ে থাকত ছাত্ররা‚ তিনি বই লিখলে আখেরে লাভ পড়ুয়াদেরই ৷

তিনের দশকে প্রকাশিত হল ‘ নব পাটীগণিত ‘ ৷ ইউ এন ধর অ্যান্ড সন্স থেকে ৷ কেশবচন্দ্র নাগ থেকে তিনি হলেন কে সি নাগ ৷ শরৎচন্দ্র তাঁর নাম দিলেন গণিত শিল্পী ৷ দ্রুত জনপ্রিয় হল কে সি নাগের পাঠ্যপুস্তক ৷ একবার কে সি নাগের ডায়েরি দেখে ফেলেন ক্যালকাটা বুক হাউজের মালিক ৷ সেখানে লিখে রাখা কীভাবে কোন অঙ্ক করলে সুবিধে হবে ছাত্রদের ৷ প্রকাশক বললেন‚ ওই বই তিনি ছাপবেন । কে সি নাগ নারাজ ৷ অঙ্কের কোনও মানে বই বের করবেন না ৷ শেষে তাঁকে বলা হল ওটা হবে শিক্ষকদের গাইড বুক ৷ এ বার তিনি রাজি হলেন ৷ ১৯৪২ সালে বেরোলো ‘ ম্যাট্রিক ম্যাথেমেটিক্স ‘ ৷ এত চাহিদা হল‚ যে ছাপিয়ে কূল করা যেত না ৷

বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে কে সি নাগের গণিত
বই ৷ পাকিস্তান বোর্ডের জন্যও লিখেছেন বই ৷ আছে তাঁর বইয়ের ব্রেল সংস্করণও ৷ পরে তাঁর বইয়ের গুণমান দেখে থাকত তাঁর পারিবারিক প্রকাশনা সংস্থা নাগ পাবলিশিং ৷ যাতে কিংবদন্তির নাম ক্ষুণ্ণ না হয় । গণিতের বাইরে বিবিধ বিষয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর ৷ গ্রহণ করেছিলেন শ্রী শ্রী সারদামায়ের শিষ্যত্ব ৷ গণিতের বাইরে বহু আধ্যাত্মিক লেখা অনুবাদ করেছেন ৷

সামিল হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামেও ৷ গান্ধীজির ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার হন ৷ জেল খেটেছিলেন ম্যালেরিয়ায় ভুগতে ভুগতে ৷ পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রস্তাব দেন ভোটে দাঁড়ানোর ৷ সবিনয়ে তা ফিরিয়ে দেন অঙ্কের মাস্টারমশাই ৷ আর ছিল খেলার নেশা ৷ ফুটবল ক্রিকেট টেনিস সব ৷ শেষদিকে আর মাঠে যেতে পারতেন না আদ্যন্ত এই মোহবাগানি ৷ রেডিয়োয় শুনতেন ধারাবিবরণী ৷

তাঁর ছাত্রদের তালিকায় আছেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়‚ সুভাষ মুখোপাধ্যায়‚ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়‚ বিকাশ রায়‚ রঞ্জিত মল্লিকের মতো দিকপালরা ৷ তাঁর বই বিক্রির রয়ালটির টাকা চলে যায় চ্যারিটি ফান্ডে ৷ তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীমণি দেবীর নামে ফান্ড ৷ গুড়াপে লোকচক্ষুর আড়ালেই পালিত হয় তাঁর জন্মবার্ষিকী ৷ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের খুব কাছেই থাকতেন কে সি নাগ ৷ এত উৎসব-মেলা-অনুষ্ঠান হয়‚ অথচ উপেক্ষিত থেকে যান তিনি ৷ যিনি আজীবন উৎসর্গ করেছিলেন ছাত্রকল্যাণে ৷ বইয়ে যাঁর নামের পাশে থাকত না ডিগ্রির উল্লেখ ৷ আসলে আমরা মানে বাঙালিরা মনে হয় বড়ই আত্মবিস্মৃত জাতি ৷
জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি ৷

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।