কেন তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য সুসংবাদ? | bdsaradin24.com
ডেস্ক নিউজ
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:২৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কেন তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য সুসংবাদ?

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন গুছিয়ে অবশেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ ভারতের নীতিনির্ধারক মহলেও তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল ও নতুন সমীকরণ। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এক বিশেষ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, তারেক রহমানের এই ফিরে আসা দিল্লির জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তির খবর হতে পারে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন কেবল এদেশের মানুষের জন্যই নয়, ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগ যখন নির্বাচন থেকে কার্যত দূরে এবং বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, ঠিক এমন মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পুনরুত্থানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত।

ইন্ডিয়া টুডে’র মতে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব এবং ‘উগ্রপন্থী’ শক্তির আস্ফালন দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ফেরা বিএনপির তৃণমূল কর্মীদের উজ্জীবিত করবে, যা একটি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ বলছে, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমানের দল (বিএনপি) সর্বাধিক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, একসময়ের মিত্র জামায়াতও খুব একটা পিছিয়ে নেই। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের অভাবনীয় বিজয় ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

​ভারতের জন্য কেন এটি সুসংবাদ?

​এই পরিস্থিতিতে ভারতকে বিএনপির প্রতি কিছুটা নমনীয় হতে দেখা যাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বিএনপিকে বর্তমানে জামায়াতের তুলনায় অধিকতর উদার ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে ভাবছে ভারত। নয়াদিল্লি আশা করছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির কর্মীদের উজ্জীবিত করবে এবং দলটি পরবর্তী সরকার গঠন করবে। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে যে, বিএনপি তাদের দলে আওয়ামী লীগের সদস্যদের যোগ দেওয়াচ্ছে।।

 

​হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সাথে ভারতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক ভারসাম্য বজায় রেখে চলতেন। এছাড়া পাকিস্তানের সাথে তিনি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেন। তবে ইউনূস সরকারের অধীনে পরিস্থিতি বদলে গেছে; তারা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চাইছে, যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের দূরত্ব বাড়াতে পারে।

 

​বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে ভারত আশা করছে। সম্প্রতি ভারত ও বিএনপির মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার কিছু লক্ষণও দেখা গেছে।

 

​১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসম্মুখে অসুস্থ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে—যা দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের পর এক বিরল ও ইতিবাচক রাজনৈতিক উষ্ণতার দৃষ্টান্ত।

 

​ভারতের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, তারেক রহমানের সাথে ইউনূস সরকারের কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের দীর্ঘমেয়াদী পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া তিনি জামায়াতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের সাথে জোটবদ্ধ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 

​চলতি বছরের শুরুর দিকে তারেক রহমান ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানের আদলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ) পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা ঘোষণা করেন।

 

​তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “দিল্লিও নয়, পিন্ডি (রাওয়ালপিন্ডি) ও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।” এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বিএনপি দিল্লি বা রাওয়ালপিন্ডি কারোর সাথেই অতি-ঘনিষ্ঠতা চাইবে না।

 

​ইন্ডিয়া টুডে-র সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমানের শোডাউনে বিপুল জনসমাগম কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ভালোভাবে নেয়নি। নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের গুঞ্জন

একমি ল্যাবরেটরিজের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগপত্রঃ একটি জটিল এবং ধূর্ত মনস্তাত্ত্বিক দলিল!?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কীভাবে

ফার্মেসী ব্যবসার জন্যে লাইসেন্সসহ যা যা লাগবে

নতুন ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ধাপ: কীভাবে করবেন ড্রাগ লাইসেন্স?

১০

পঞ্চদশ সংশোধনী: কেন এসেছিল, কী বদলেছিল, কেন আবার আলোচনায়?

১১

ইতিহাস ও নিসর্গের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘বলধা গার্ডেন’

১২

যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প

১৩

বন্যা ও পানিতে ডুবে মৃতদের দাফনের নিয়ম

১৪

সোনালী অতীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিরাজুল ইসলাম ও রানী সরকার

১৫

হালান্ডকে নিয়ে অজানা কিছু কথা

১৬

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

১৭

মুক্তচিন্তার পথিক: মুস্তাফা মনোয়ার

১৮

পাসপোর্ট এল কেমন করে

১৯

পাসপোর্টের কোন রং দিয়ে কী বোঝায়

২০