বই নেবেগো বই ! | bdsaradin24.com
ডেস্ক নিউজ
২১ অক্টোবর ২০২২, ৭:১০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বই নেবেগো বই !

 

১৯৯২ সালে ডায়াবেটিকস ধরা পড়লে ডাক্তার নিয়মিত ৩-৪ কিলোমিটার হাঁটার পরামর্শ দিলেন। তিনি হাঁটতে শুরু করলেন। সাথে সাথে গ্রামে গ্রামে বই দিতে থাকলেন মানুষের ঘরে ঘরে।

এক সাক্ষাৎকার নেবার সময় তিনি বলেন,
“আমি ভেবে দেখলাম, যারা আমার বাড়ি থেকে বই নিয়ে যায়, আমি নিজেই তো হেঁটে হেঁটে তাদের বাড়িতে গিয়ে বই পৌঁছে দিয়ে আসতে পারি। সেই থেকে শুরু। এক বাড়িতে বই দিতে গেলে তার দেখাদেখি আরেক বাড়ির লোকেরাও বই চায়। বই নিয়ে হাঁটা আস্তে আস্তে আমার নেশায় পরিণত হলো।”

নিজের টাকায় বই কিনে পায়ে হেঁটে তা ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি দিয়ে আসতেন ।নি​র্দিষ্ট সময়ের পর নিয়েও আসতেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মানুষটি।

তিনি হারেজ উদ্দিন সরকার । জন্মের পর থেকেই মা আদর করে “পলান” নামে ডাকতেন। আজকে ‘পলান সরকার’ নামেই তিনি বহুল আলোচিত একটি ভালোবাসার নাম।

১৯২১ সালের ১ আগস্ট অবিভক্ত বাংলার নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ মাস বয়সে তাঁর বাবা হায়াতউল্লাহ সরকার মারা গেলে তিনি একই এলাকায় দাদুর বাড়িতে বেড়ে ওঠেন।

তিনি যাত্রাদলে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে সংলাপ পড়তে গিয়ে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় । বেশি বেশি লেখাপড়া না করতে পারলেও বইয়ের প্রতি, শিক্ষার জন্যে ছিল অদম্য ভালোবাসা ও আকর্ষণ।
১৯৬৫ সালে নিজ গ্রাম বাউসায়
“হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়” স্থাপনের জন্য নিজের জমি দান করেন।

১৯৯০ সালের পর নিজে হয়ে ওঠেন
‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার’ । গ্রামের যেসব ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকার করত, তাদের বাড়ি গিয়ে বই ধার দিয়ে আসতেন তিনি। পড়া শেষ হলে নিজেই আবার ফেরত নিয়ে আসতেন।
তারপর ডায়াবেটিকস ধরা পড়লে …..!

বাকি ছাত্র ছাত্রীদেরও বই পড়ার উৎসাহ দেখে সবাইকে বই দিয়ে নিজেই ফেরত নিবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। বাউশা গ্রামে নিজের চাল কলে যারা যথা সময়ে দেনা পরিশোধ করতো – তাদের তিনি বই উপহার দিতেন।
বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার দিতেন।
বই প্রেমী মানুষটিকে এলাকার অনেকেই পাগল বলত।

হাঁটতে হাঁটতে একদিন বয়স বাড়ল। মোটা কাঁচের ঘোলাটে চশমা, গায়ে সাদামাটা পাঞ্জাবী। দেখা যেত কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে এক বৃদ্ধ হাঁটছেন গাঁয়ের মেঠো রাস্তা ধরে। পাশের ধানক্ষেত থেকে ডাক উঠতো – “বইওয়ালা দুলাভাই, কই যান?”।
গ্রামের সকলের কাছে মানুষটি তখন বইওয়ালা দুলাভাই নামে পরিচিত।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে তাঁর সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রচার হয়। সারাদেশ তাঁর নাম জানতে পারে।

২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর ‘ছুটির দিনে’ সাময়িকীতে পলান সরকারকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয়, যার নাম ছিলো
‘বিনি পয়সায় বই বিলাই’।
সেইথেকে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ উপাধিতে পরিচিত হন সারাদেশে।

২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে বিশ্বের ভিন্ন ভাষার প্রধান প্রধান দৈনিকে একযোগে পলান সরকারের বই পড়ার এই আন্দোলনের গল্প ছাপা হয়।

সেই গল্প পড়ার পর মনে হলো-
আলোর ফেরিওয়ালার তুলনায় আমরা কতো ক্ষুদ্র

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের গুঞ্জন

একমি ল্যাবরেটরিজের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগপত্রঃ একটি জটিল এবং ধূর্ত মনস্তাত্ত্বিক দলিল!?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কীভাবে

ফার্মেসী ব্যবসার জন্যে লাইসেন্সসহ যা যা লাগবে

নতুন ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ধাপ: কীভাবে করবেন ড্রাগ লাইসেন্স?

১০

পঞ্চদশ সংশোধনী: কেন এসেছিল, কী বদলেছিল, কেন আবার আলোচনায়?

১১

ইতিহাস ও নিসর্গের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘বলধা গার্ডেন’

১২

যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প

১৩

বন্যা ও পানিতে ডুবে মৃতদের দাফনের নিয়ম

১৪

সোনালী অতীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিরাজুল ইসলাম ও রানী সরকার

১৫

হালান্ডকে নিয়ে অজানা কিছু কথা

১৬

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

১৭

মুক্তচিন্তার পথিক: মুস্তাফা মনোয়ার

১৮

পাসপোর্ট এল কেমন করে

১৯

পাসপোর্টের কোন রং দিয়ে কী বোঝায়

২০