স্যালাইন খাচ্ছেন? মনে রাখবেন, এটা শরবত না—ঔষধ! | bdsaradin24.com
বিশেষ প্রতিনিধি
২৫ মে ২০২৫, ৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

স্যালাইন খাচ্ছেন? মনে রাখবেন, এটা শরবত না—ঔষধ!

 

“ওর স্যালাইনকে শরবত বা জুস ভাবা বন্ধ করুন এবং অবশ্যই ঔষধ মনে করুন।”
এই কথাটা হালকা মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে আছে ভয়ংকর বাস্তবতা। একটু অসতর্কতা—আর সেটাই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।

আজকের গল্পটা ২১ বছর বয়সের এক তরুণকে নিয়ে, যার রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ছিল ১৬০ mmol/L—যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা হওয়া উচিত ১৩৫ থেকে ১৪৫-এর মধ্যে।

কারণ কী?
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে গিয়ে সে একসাথে তিনটি ওরাল স্যালাইনের প্যাকেট মিশিয়েছে মাত্র এক গ্লাস পানিতে এবং সেটা পান করেছে। মনে হয়েছে, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার দারুণ এক শরবত বানিয়েছে। কিন্তু পরিণতি?

এরপর থেকেই শুরু হয়:

মাথা ঘোরা

মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা

অস্থিরতা

বমি ভাব

আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়—এই অবস্থা থেকে ব্রেইন সেল ফুলে গিয়ে কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃ’ত্যুও হতে পারে।

ভাবুন একবার—আপনার খুব কাছের একজন হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল, হাসপাতালে নেওয়ার পথে চলে গেল। আপনি জানলেন না কী হলো, ডাক্তারও প্রথমে ধরতে পারল না। চারপাশ শুধু বলবে, “কীভাবে কীভাবে যেন মরে গেল…”

স্যালাইন কি আসলেই এভাবে খাওয়া উচিত?

না। স্যালাইন কোনো সাধারণ পানীয় না। এটি একটি চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হলে শরীরে লবণ ও গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করতে ওরাল স্যালাইন (ORS) ব্যবহার করা হয়।

কীভাবে খেতে হবে?

একটি পূর্ণ ওরস্যালাইন প্যাকেট (ORS) মিশাতে হবে ৫০০ মিলি (অর্ধ লিটার) পরিষ্কার পানিতে।

শিশুদের ক্ষেত্রে যদি একবারে না খাওয়ানো যায়, তাহলে বাকি অংশ ফেলে দিতে হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

অল্প অল্প করে পানিতে মিশিয়ে বহুবার বানানো ঠিক নয়। এতে গঠনগত ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

 

ভুল যে আমরা অনেকেই করি:

১. “একটু ক্লান্ত লাগছে, স্যালাইন খেয়ে নেই”

এটা শারীরিক চাহিদা না বুঝে নিজে নিজে চিকিৎসা নেওয়া, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

২. “এক প্যাকেট অনেক বড়, অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়াই”

এতে করে কখনো সোডিয়াম ও গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত হয়, কখনো হয় কম। দুটি অবস্থাই বিপজ্জনক।

৩. “গরমে আরাম লাগে বলে দিনে কয়েকবার স্যালাইন খাই”

এর ফল হতে পারে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যের ভয়ংকর বিপর্যয়।

 

সতর্ক হোন, সচেতন করুন:

স্যালাইন চিকিৎসার একটি শক্তিশালী উপাদান। একে কখনোই শরবত বা জুসের মতো দেখবেন না। নিজে খাওয়ার আগে ভালোভাবে বুঝে নিন, আর যদি কাউকে খাওয়াতে চান, তবে নিয়ম মেনে সঠিক মাত্রায় বানিয়ে দিন।

সচেতনতা বাঁচাতে পারে জীবন।
“স্যালাইন = জুস” এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে বলুন:

স্যালাইন খেতে হলে নিয়ম মেনে খেতে হবে—
৫০০ মিলি পানিতে একটি প্যাকেট স্যালাইন।
না কম, না বেশি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের গুঞ্জন

একমি ল্যাবরেটরিজের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগপত্রঃ একটি জটিল এবং ধূর্ত মনস্তাত্ত্বিক দলিল!?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কীভাবে

ফার্মেসী ব্যবসার জন্যে লাইসেন্সসহ যা যা লাগবে

নতুন ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ধাপ: কীভাবে করবেন ড্রাগ লাইসেন্স?

১০

পঞ্চদশ সংশোধনী: কেন এসেছিল, কী বদলেছিল, কেন আবার আলোচনায়?

১১

ইতিহাস ও নিসর্গের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘বলধা গার্ডেন’

১২

যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প

১৩

বন্যা ও পানিতে ডুবে মৃতদের দাফনের নিয়ম

১৪

সোনালী অতীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিরাজুল ইসলাম ও রানী সরকার

১৫

হালান্ডকে নিয়ে অজানা কিছু কথা

১৬

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

১৭

মুক্তচিন্তার পথিক: মুস্তাফা মনোয়ার

১৮

পাসপোর্ট এল কেমন করে

১৯

পাসপোর্টের কোন রং দিয়ে কী বোঝায়

২০