আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইলে একাত্তরপূর্ব ভূমিকার জন্য সম্মান পাবেন শেখ মুজিব: মাহফুজ | bdsaradin24.com
বিশেষ প্রতিনিধি
১৩ নভেম্বর ২০২৪, ৮:৫৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইলে একাত্তরপূর্ব ভূমিকার জন্য সম্মান পাবেন শেখ মুজিব: মাহফুজ

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের নবনিযুক্ত উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, শেখ মুজিব ‘৭১ পূর্ববর্তী ভূমিকার জন্য সম্মান পাবেন, যদি শেখের একাত্তর পরবর্তী গণহত্যা, গুম, দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ এবং অবশ্যই ‘৭২-এর সংবিধান, যা বাকশালের পথ প্রশস্ত করেছিল— এসবের জন্য তার দল ও পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে এ কথা লেখেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ ও পরিবারের) শেখ কন্যার (তিনি তার পিতাকে বিদ্রুপ ও হাসির পাত্র বানিয়েছেন) স্বৈরাচারী শাসনের দায় স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া ও বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিৎ। মুজিববাদী রাজনীতি ও শেখ পরিবারের বন্দনাও পরিহার করা উচিৎ।

মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টের শুরুটা ছিল এমন, শেখ মুজিব ও তার কন্যা [আরেক শেখ] তাদের স্বৈরাচারী শাসনের জন্য জনগণের ক্রোধ ও ঘৃণার শিকার হয়েছেন। একমাত্র পার্থক্য হলো— শেখ হাসিনার মতো নয়, শেখ মুজিব একসময় পূর্ব বাংলার জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ তাকে অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু ‘৭১-এর পর তিনি নিজেই একজন অত্যাচারী শাসকে পরিণত হন।

উপদেষ্টা বলেন, মুজিববাদকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ দুর্বল ও বিভক্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, শেখ মুজিবের স্বৈরাচারী ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭৫ সালে তার মৃত্যুতে শোক পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

সম্প্রতি বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছে। সেটিকে ইঙ্গিত করেই মাহফুজ আলম বলেন, তার কন্যার (শেখ হাসিনা) স্বৈরাচারী শাসনের কারণে শেখের ছবিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে (যদিও কর্মকর্তারা সরিয়েছে)। ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ফ্যাসিবাদী বাবার নামে ও একাত্তর পরবর্তী চেতনার কথা বলে শাসন কার্য চালিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্দোলনকারীদের একাংশ শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। মাহফুজ আলম তার ফেসবুক পোস্টে সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাসিনার পিতাকে দেবতুল্য করা হয়েছিল। কিন্তু বিপ্লবের পর জনগণ তাদের উভয়ের ছবি, মূর্তি ও ভাস্কর্য একসঙ্গে অপসারণ করে। যদি কেউ সরকারি অফিস থেকে শেখদের ছবি সরানোর জন্য আক্ষেপ করেন, তাহলে তিনি মূলত এই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের চেতনাকেই নিন্দা জানালেন।

উপদেষ্টা বলেন, সবার মনে রাখতে হবে যে ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। আমরা ইতিহাসের অসংগতি ও অপব্যাখ্যাগুলো সংশোধন করতে এখানে এসেছি। মনে রাখবেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের গণমানুষের। তবে কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি একাত্তরের পর অন্যায় করে থাকেন, তাহলে তার বিচার ও সাজা হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার জন্য তাদেরকে ছাড় দেয়া উচিত নয়। সবশেষে তিনি বলেন, ‘৪৭ এবং ‘৭১-এর পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনা সবার স্মৃতিতে অম্লান থাকুক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত-এনসিপির জোট নির্বাচন বর্জন করছে!

মাহাথিরের দীর্ঘ ও সফল জীবনের রহস্য

সেন্টমার্টিনে রিপ কারেন্ট ও বিপদজনক বিচ: পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

জুলাই যোদ্ধা সুরভী তাহরিমা মুক্ত!

ওবায়দুল কাদের ভেন্টিলেশনে, অবস্থা সংকটাপন্ন

অনৈতিক প্রস্তাব, রাজিনা হওয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো হয় সুরভীকে

ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

ঢাকায় রহস্যময় দেয়ালচিত্র : সুবোধ

এনইআইআর চালু হচ্ছে আজ, বন্ধ হয়ে যাবে যেসব হ্যান্ডসেট

১০

কঠিনতম মুহূর্তেও রাজনৈতিক শালীনতার দৃষ্টান্ত রাখলেন তারেক রহমান

১১

যেভাবে জানবেন আপনার ভোট কেন্দ্রের নাম

১২

খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি আগেই হয়েছিল? মেডিকেল সাইন্স কি বলে?

১৩

ফয়সাল করিম মাসুদের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দ্য ডিসেন্টের বিশ্লেষণ

১৪

খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে ঢাকার যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ

১৫

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবন

১৬

তারেক রহমান কি পারবেন তিন প্রজন্মের সেতুবন্ধন হতে?

১৭

আই হ্যাভ এ প্ল্যান : তারেক রহমান

১৮

জামায়াতের সঙ্গী হতে যাচ্ছে এনসিপি!

১৯

কেন তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য সুসংবাদ?

২০