ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবাবগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের সুযোগ্য কন্যা মেহেনাজ মান্নান ইলিশ ধরায় খরচ ৮৩০ টাকা, ভোক্তার গুনতে হয় অন্তত ২ হাজার নির্বাচন কে সামনে রেখে উত্তাল ঢাকা-১ দোহার-নবাবগঞ্জ আসন আটপাড়ায় কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কেন্দুয়ায় মানবপাচার মামলার আসামীরা রিমান্ডে মাস্টারমাইন্ডের নাম প্রকাশ করেছে ‎ ‎কেন্দুয়ায় মানবপাচারের মামলায় চীনা নাগরিকসহ দুই আসামীকে কারাগারে প্রেরণ কেন্দুয়া থেকে তিন নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টা; চীনা নাগরিকসহ আটক দুইজন কেন্দুয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ ‎কেন্দুয়ায় প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তের সময় হাতাহাতি: ইউএনও আহত কেন্দুয়ায় প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ জাল ধ্বংস ওসমান হাদী দাবিতে ঘনিষ্ঠ ভিডিও প্রচার, সামনে এলো আসল সত্য ব্লাড মুন দেখা যাবে রোববার, চাঁদ লাল হওয়ার কারণ কী? তিন দলই প্রধান উপদেষ্টার অধীনে নির্বাচন চায়: প্রেস সচিব টিউলিপ বাংলাদেশি এনআইডি ও পাসপোর্টধারী, রয়েছে টিআইএনও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক নববর্ষের অঙ্গীকার: প্রধান উপদেষ্টা নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দেওয়া ছবিটি সম্পর্কে যা জানা গেল বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান ড. ইউনূস বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে মোদির ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন: প্রেসসচিব চীন সফরে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্যে ভারতে তোলপাড়

নেপালকে কাঁদিয়ে মেয়েদের সাফ জয়

বিডি সারাদিন২৪ নিউজ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
  • / 144
আজকের সারাদিনের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে আরেকবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে। স্বাগতিক নেপালকে আরেকবার বাকরুদ্ধ করে ২-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ছয়বার ফাইনালে উঠে একবারও স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি নেপাল।

সর্বশেষ ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার দুই গোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আজ। সর্বোচ্চ ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ করেছে বাংলাদেশ।

দুই দলকেই হতাশ করেছে গোলবার। অন্যথা, বাংলাদেশ-নেপাল দুই দলের নামের পাশে ১-১ গোল থাকতে পারত।
দশরথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তহুরা খাতুন। নিজের কাজটাও করেছিলেন বাংলাদেশি স্ট্রাইকার।

কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলবার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় গোলকিক নেওয়ার সময় পরে গেলে তাতে শট জোরালো হয় না। নেপালের ডি বক্সের সামনেই দাঁড়ানো তহুরা বল পান। গোলরক্ষককে একা পেয়ে শটও নিলেন তিনি। কিন্তু তা বারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে হেড দিলে তা ধরে ফেলেন গোলরক্ষক অঞ্জিলা সুব্বা।
এই গোলবারই নেপালকেও হতাশ করে ১০ মিনিটে। আমিশা কারকির শট বারে লেগে ফিরে আসে। ৩৫ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন মনিকা চাকমা। গোলরক্ষক অঞ্জিলা গোলবার থেকে বের হয়ে এসে বাংলাদেশের একটি ক্রস প্রতিহত করলে ফাঁকা গোলবারেও বল জালে জড়াতে পারেননি মনিকা।

প্রথমার্ধে কোনো দল গোল না পেলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন সাবিত্রা ভান্ডারি। বক্সে বেশ কিছু বল বাড়িয়েছিলেন তিনি। যা থেকে গোলও পেতে পারত নেপাল যদি তার সতীর্থরা ঠিকমতো সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত। তবে সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা।

বিরতির পরেই লিড নেয় বাংলাদেশ। ৫২ মিনিটে সাবিনার বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে সেই সুযোগ নেন মনিকা। ডান প্রান্ত থেকে নেপালের গোলরক্ষক অঞ্জিলাকে ফাঁকি দেন তিনি। তিন মিনিট পরেই অবশ্য দশরথ স্টেডিয়ামে জন সমুদ্রের গর্জন শুরু হয়। ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শককে আনন্দে ভাসান আমিশা।

৫৬ মিনিটে প্রীতি রাইয়ের অবিশ্বাস্য এক পাসে গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করেন আমিশা। রক্ষণ চেরা পাসে শুধু বলকে পথ দেখানোই বাকি ছিল। সমতায় ফেরার চতুর্থ মিনিটের মাথায় আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। তবে সাবিত্রা বাঁ প্রান্তের দূরুহ কোণ থেকে যে শট নিলেন তা ডান প্রান্তের গোলবারের বাইরে দিয়ে যায়।

৬৮ মিনিটে নেপালকে বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন অঞ্জিলা। নিশ্চিত গোলকে যেভাবে শূন্যে লাফ দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করলেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো এক শট নিয়েছিলেন মারিয়া মান্দা। কিন্তু বাঁ প্রান্তে লাফ দিয়ে দারুণ সেভ দিলেন নেপালের গোলরক্ষক। গ্যালারিতে থাকা নেপালের উত্তাল জন সমুদ্রকে থামানোর দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ৭৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রসে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র।

তবে ৮১ মিনিটে ঠিকই ১৫ হাজারের বেশি সমর্থককে বাকরুদ্ধ করে দিলেন ঋতুপর্ণা। বাঁ প্রান্ত থেকে প্রায় টাচ লাইন থেকে যে শটটা নিলেন তা এক কথায় অবর্ননীয়। নেপালের গোলরক্ষক শূন্যে লাফ দিয়ে বিশ্বস্ত হাতে বলকে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করলেও ঋতুর মাপা শটকে হার মানাতে পারেননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির আবেদন করেছিল নেপাল। তবে ৯০ মিনিটে সাবিত্রার শট যখন মাসুরা পারভিনের হাতে লাগে তখন শরীরের সঙ্গে লেগেছিল তার দুই হাত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নেপালকে কাঁদিয়ে মেয়েদের সাফ জয়

আপডেট সময় : ০৮:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪

 

নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে আরেকবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে। স্বাগতিক নেপালকে আরেকবার বাকরুদ্ধ করে ২-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ছয়বার ফাইনালে উঠে একবারও স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি নেপাল।

সর্বশেষ ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়েই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমার দুই গোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আজ। সর্বোচ্চ ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ করেছে বাংলাদেশ।

দুই দলকেই হতাশ করেছে গোলবার। অন্যথা, বাংলাদেশ-নেপাল দুই দলের নামের পাশে ১-১ গোল থাকতে পারত।
দশরথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন তহুরা খাতুন। নিজের কাজটাও করেছিলেন বাংলাদেশি স্ট্রাইকার।

কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলবার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় গোলকিক নেওয়ার সময় পরে গেলে তাতে শট জোরালো হয় না। নেপালের ডি বক্সের সামনেই দাঁড়ানো তহুরা বল পান। গোলরক্ষককে একা পেয়ে শটও নিলেন তিনি। কিন্তু তা বারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে হেড দিলে তা ধরে ফেলেন গোলরক্ষক অঞ্জিলা সুব্বা।
এই গোলবারই নেপালকেও হতাশ করে ১০ মিনিটে। আমিশা কারকির শট বারে লেগে ফিরে আসে। ৩৫ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন মনিকা চাকমা। গোলরক্ষক অঞ্জিলা গোলবার থেকে বের হয়ে এসে বাংলাদেশের একটি ক্রস প্রতিহত করলে ফাঁকা গোলবারেও বল জালে জড়াতে পারেননি মনিকা।

প্রথমার্ধে কোনো দল গোল না পেলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন সাবিত্রা ভান্ডারি। বক্সে বেশ কিছু বল বাড়িয়েছিলেন তিনি। যা থেকে গোলও পেতে পারত নেপাল যদি তার সতীর্থরা ঠিকমতো সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত। তবে সেই সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা।

বিরতির পরেই লিড নেয় বাংলাদেশ। ৫২ মিনিটে সাবিনার বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারলে সেই সুযোগ নেন মনিকা। ডান প্রান্ত থেকে নেপালের গোলরক্ষক অঞ্জিলাকে ফাঁকি দেন তিনি। তিন মিনিট পরেই অবশ্য দশরথ স্টেডিয়ামে জন সমুদ্রের গর্জন শুরু হয়। ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শককে আনন্দে ভাসান আমিশা।

৫৬ মিনিটে প্রীতি রাইয়ের অবিশ্বাস্য এক পাসে গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করেন আমিশা। রক্ষণ চেরা পাসে শুধু বলকে পথ দেখানোই বাকি ছিল। সমতায় ফেরার চতুর্থ মিনিটের মাথায় আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকেরা। তবে সাবিত্রা বাঁ প্রান্তের দূরুহ কোণ থেকে যে শট নিলেন তা ডান প্রান্তের গোলবারের বাইরে দিয়ে যায়।

৬৮ মিনিটে নেপালকে বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন অঞ্জিলা। নিশ্চিত গোলকে যেভাবে শূন্যে লাফ দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করলেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো এক শট নিয়েছিলেন মারিয়া মান্দা। কিন্তু বাঁ প্রান্তে লাফ দিয়ে দারুণ সেভ দিলেন নেপালের গোলরক্ষক। গ্যালারিতে থাকা নেপালের উত্তাল জন সমুদ্রকে থামানোর দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ৭৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রসে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র।

তবে ৮১ মিনিটে ঠিকই ১৫ হাজারের বেশি সমর্থককে বাকরুদ্ধ করে দিলেন ঋতুপর্ণা। বাঁ প্রান্ত থেকে প্রায় টাচ লাইন থেকে যে শটটা নিলেন তা এক কথায় অবর্ননীয়। নেপালের গোলরক্ষক শূন্যে লাফ দিয়ে বিশ্বস্ত হাতে বলকে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করলেও ঋতুর মাপা শটকে হার মানাতে পারেননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির আবেদন করেছিল নেপাল। তবে ৯০ মিনিটে সাবিত্রার শট যখন মাসুরা পারভিনের হাতে লাগে তখন শরীরের সঙ্গে লেগেছিল তার দুই হাত।