সরকার এবং বাফুফের এক স্ট্রেটেজিতে দেশের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা অপচয় রোধ করা যাচ্ছে এই বিশ্বকাপে।
গত ৪ মাস আগে ফিফা যখন টিভি স্বত্ব নিলামে তুলে তখন বাংলাদেশের টিভি স্বত্ব ফিফার ভিত্তি দরে ৭.২১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৮ কোটিতে কিনে ফেলে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অপারেট করা ভারতীয়দের প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবুক।
তারা ভেবেছিল, আগে আগে বাংলাদেশের টিভি স্বত্ব কিনে তারপর লবিং চালিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করবে। গতবার বিশ্বকাপে একই ধরনের কাজ করেছিল। দেশের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খেয়ে দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্তরে, এক বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে গিয়েই।
এবারো ভেবেছিল বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত তাদের থেকে কিনে নিতে বাধ্য হবেই। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আসর কোন দেশটা সম্প্রচার করবে না। কোটি কোটি মানুষের আবেগ জড়িত।
বাংলাদেশ তাদের ট্র্যাপে না-পা দিয়ে উল্টো ফিফার সঙ্গে সরাসরি নেগোসিয়েশন শুরু করল।
প্রথমে বাংলাদেশ ফিফার কাছে আবেদন করে বিটিভি দেশের সরকারি টেলিভিশন, সুতরাং দেশের জাতীয় টিভি হিসেবে বিনামূল্যে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনুমতি দিতে।
ফিফা রাজি হলো না ফ্রী-তে। তাদের ব্যাখ্যা বিশ্বকাপ থেকে আয়ের টাকায় ফিফা প্রতিবছর তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে ডোমেস্টিক ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করে থাকে, বাংলাদেশও এ সুবিধা পায়। সুতরাং এখানে লাভ না হলে ফিফা ব্যয় করবে কীভাবে। ফিফার আয়ের বড় উৎসই এটা।
এরপর কম দামে স্বস্ত কেনারও উপায় নাই বাংলাদেশের, কারণ, অলরেডি বাংলাদেশের স্বস্ত কিনে ফেলছে একটা প্রতিষ্ঠান।
এরমধ্যে সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠান বারবার বাংলাদেশকে এপ্রোচ করে, থার্ড পার্টি আরেক দফায় থার্ড পার্টি ধরেও চেষ্টা চালায় কিন্তু বাংলাদেশ না কেনবার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।
এরমধ্যে টি-স্পোর্টস ও স্টার নিউজ একটু পা বাড়ায়, তারা ভেবেছিল বিটিভিসহ সম্মিলিতভাবে কিনে সরকারের ঘাড়ে মোটা অঙ্ক চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা নামকাওয়াস্তে কিছু দিয়ে সম্প্রচার স্বস্ত নিয়ে নিবে।
কিন্তু সরকার স্টিল অনড় থাকে। দেশের বাড়তি টাকা গচ্চা দিয়ে আমরা কেন থার্ড পার্টি থেকে সম্প্রচার স্বস্ত কিনতে যাবো—সরকারের মনস্থির এরকম।
এরমধ্যে বাফুফের মাধ্যমে নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে থাকে সরাসরি ফিফার সঙ্গে।
সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানি পড়ে গেছে মাইনকার চিপায়। ৮৮ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশে সম্প্রচার স্বস্ত কিনে এখন বিক্রি করতে না পেরে ফিফার কিস্তিও পরিশোধ করতে পারতেছে না। এদিকে ফিফা নোটিশ দিচ্ছে তাদের, চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে পরপর ৩ কিস্তি বাদ গেলে।
এ সময়টাতে ফিফার সঙ্গে সরাসরি নেগোসিয়েশন চালায় তাবিল আউয়াল। যেন সিঙ্গাপুরের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়ে গেলেই সরাসরি বাংলাদেশ ফিফা থেকে কম দামে স্বস্ত কিনে ফেলতে পারে। বিশ্বকাপের আর মাত্র ৩-৪ দিন বাকি।
৩ কিস্তি ডিলেই হওয়ায় ফিফা বাতিল করে দেয় স্প্রিংবুকের চুক্তি। তাৎক্ষণিক বাংলাদেশ নেগোসিয়েশন করে ভ্যাটসহ মাত্র ৭২ কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বস্ত কিনে নেয়। ওই থার্ড পার্টি থেকে কিনতে গেলে যেখানে ভ্যাটসহ খরচ হতো ২২০ কোটি প্লাস।
সরকার এবং বাফুফের সদিচ্ছা এবং এক স্ট্রেটেজিতেই বেছে গেল দেশের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা৷ একটা কথা আছে না সবুরে মেওয়া ফলে, সেটারই প্রমাণ মিলল সরকারের এই কৌশলী সিদ্ধান্তে।
তাবিথ আউয়াল বাফুফের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দেশের ফুটবলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে, অথচ কোনদিন দেখি নাই উনাকে ক্যামরার সামনে নিজেকে জাহির করতে।
নীরবে তিনি তার কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের ১৫০ কোটি অপচয় রোধের এই কাজটাই যদি অন্য কোনো দলের কেউ করতো, এতক্ষণে ফেসবুকে থ্যাঙ্ক ইউর বন্যায় ভয়ে যেত। বিএনপি এবং তাবিথ আউয়াল বলে ফেসবুক পাতা নীরব।
মন্তব্য করুন