ঢাকা-৮ আসন থেকে এমপি প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী‑নেতা শরিফ ওসমান হাদি বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি যুব‑মনোনীত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সরাসরি নেতা ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন।
ওসমান হাদি বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গণে তিনি বিশেষত জুলাই অভ্যুত্থান নামে পরিচিত যুব আন্দোলনের পর সক্রিয়ভাবে সামনে আসেন, যেখানে তিনি তরুণদের সংগঠিত করার পাশাপাশি দেশি রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় তৈরি করেন।
হাদি ইনকিলাব মঞ্চ- এর মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন ও জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতামত ও মনোনীত কর্মসূচিগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও তথাকথিত অধিকারের ভিত্তিতে একটি ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র গঠন চান।
২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমান হাদি ঢাকা‑৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছেন যে তিনি ভোটকে ‘ভিক্ষা’ হিসেবে গ্রহণ করে সংসদে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং ভোট কেনার মতো অনৈতিক প্রচারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে হাদি নানা সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সংবাদে তিনি জানিয়েছেন যে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি দেশি‑বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে হত্যা‑হুমকি, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও অপরাধমূলক হুমকি দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি দাবি করেছেন যে এসব হুমকি তাঁকে রাজনীতি থেকে সরে না দাঁড়াতে প্রভাবিত করতে পারে না।
ইনকিলাব মঞ্চ সাধারণত একটি তরুণ‑নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে সরকারের নীতি, বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি নিয়ে।
শরিফ ওসমান হাদি (যিনি সাধারণত ওসমান হাদি নামে পরিচিত) হলেন একজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক কর্মী ও বক্তা, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন এবং আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়কে ঘিরে জনসম্মুখে সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।[২]
ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম। ভাইবোনের মধ্যে হাদি সর্বকনিষ্ঠ। তিনি প্রাথমিক থেকে আলিম পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় লেখাপড়া করেছেন। হাদি তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায়, যেখানে তিনি আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।
পরবর্তীকালে হাদি ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি স্থানীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হওয়া আন্দোলনে হাদিকে অন্যতম তরুণ নেতৃত্বদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৭]
২০২৫ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনে তাকে প্রধান নেতৃত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে ইনকিলাব মঞ্চকে “ন্যাশনাল অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ইউনিটি” ব্যানারের অধীন থাকা সংগঠনগুলোর একটি হিসেবে দেখানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা ও দাবির ভিত্তিতে গঠিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ শরিফ ওসমান হাদির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১]
সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং “ইনসাফভিত্তিক” একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার প্রধান মূল্যবোধ হিসেবে থাকবে।
আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন
২০২৫ সালে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রদ্রোহী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে “ন্যাশনাল অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ইউনিটি” ব্যানারের অধীনে যে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেখানে ইনকিলাব মঞ্চ অন্যতম অংশগ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
বিএনপি ও পুরনো ধারার রাজনীতি নিয়ে মতামত
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি যদি “পুরনো ধারায়” রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।তিনি সেখানে জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ধারা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সতর্ক করেন যে শুধু সংসদে বসে “দেশবিরোধী আইন” করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।[৯]
অন্তর্বতীকালীন সরকারের সমালোচনা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং দৃশ্যমান পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে হাদি সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন।
ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থিতা
২০২৫ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন (মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর নিয়ে গঠিত) থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন শরিফ ওসমান হাদি।[১][১৪] তিনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও “চা-সিঙ্গারা” আড্ডার আয়োজনের কথা জানান, যা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে অবস্থান
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরিফ ওসমান হাদি মন্তব্য করেন যে এই রায় “পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে” এবং কোনো স্বৈরাচার দীর্ঘকাল মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যেতে পারে না।
২০২৫ এ জাতীয় নাগরিক পার্টির ডাকা মার্চ টু গোপালগঞ্জ ক্যাম্পেইনে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গালিগালাজপূর্ণ ভাষায় তীব্র সমালোচনা করেন যা ব্যাপক সমালোচনা ও আলোড়নের সৃষ্টি করে।পরবর্তীকালে বিতর্কের মুখে তিনি তার গালিকে মুক্তির মহাকাব্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ওসমান হাদি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক।