সংক্ষেপে বললে, না। খালেদা জিয়ার মৃত্যু আগেই হয়ে গিয়েছিল এমন দাবির পক্ষে কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের বা বাস্তব প্রমাণ নেই।
এ ধরনের গুজব কেন ছড়ায়, আর মেডিকেল সায়েন্স আসলে কী বলে, সেটা পরিষ্কার করে বলি।
মেডিকেল সাইন্স কী বলে
চিকিৎসাবিজ্ঞানে মৃত্যু ঘোষণা করার নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। সাধারণত তিনভাবে মৃত্যু নির্ধারিত হয়:
কার্ডিয়াক ডেথ
হৃদস্পন্দন ও শ্বাস স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ব্রেইন ডেথ
মস্তিষ্কের সব কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ। এই অবস্থায় মানুষ ভেন্টিলেশনে থাকলেও আইনগতভাবে মৃত ধরা হয়।
ক্লিনিক্যাল ডেথ (অস্থায়ী)
কিছু সময়ের জন্য শ্বাস বা হার্ট বন্ধ থাকলেও পুনরুজ্জীবন সম্ভব। এটি মৃত্যু নয়।
খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কখনোই ব্রেইন ডেথ বা কার্ডিয়াক ডেথ ঘোষণা করা হয়নি। তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন—এগুলো সত্য। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই মৃত্যুর সমান নয়।
“আগেই মারা গেছেন” গুজব কেন ওঠে
দীর্ঘদিন জনসম্মুখে না থাকা
বিদেশে বা আইসিইউতে চিকিৎসা
বয়সজনিত জটিলতা
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অপপ্রচার
এসব কারণে অনেক সময় মানুষ কোমা, সংকটাপন্ন অবস্থা আর মৃত্যু এক করে ফেলে।
বাস্তবতা
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা ও চলাচল বিভিন্ন সময় পরিবার, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
কোনো সময়ই তার মৃত্যুর মেডিকেল সার্টিফিকেট, ব্রেইন ডেথ রিপোর্ট বা হাসপাতালের ঘোষণা আসেনি।
তাই “মৃত্যু আগেই হয়েছিল” বলা মেডিকেল সায়েন্স ও প্রমাণ—দুটোর সাথেই সাংঘর্ষিক।
উপসংহার:
এটি একটি গুজবভিত্তিক দাবি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এবং প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যু আগেই হয়েছিল এমন কথা সত্য নয়।
মন্তব্য করুন