তিন মাস দেশেই ছিলেন ওবায়দুল কাদের | bdsaradin24.com
বিশেষ প্রতিনিধি
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তিন মাস দেশেই ছিলেন ওবায়দুল কাদের

 

৫ই আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ দিন দলটির প্রায় সব নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। জীবন রক্ষায় সেনানীবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেক নেতা। কিন্তু তখন বড় জিজ্ঞাসা ছিল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কোথায় আছেন। তিনি দেশে না বিদেশে এমন প্রশ্ন ছিল রাজনৈতিক মহলে। সময়ে সময়ে তাকে নিয়ে নানা গুজব আর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বাতাসে।

মানবজমিন-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী গণঅভ্যুত্থানের পর তিন মাস ৫ দিন তিনি দেশেই ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিরাপদেই ছিলেন। দলের সভাপতির মতো তিনিও ভারতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেছেন এই সময়ে। যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন দলীয় সভাপতির সঙ্গে। সেখান থেকে সাড়া মিলেনি। সূত্রের দাবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যে যারপরনাই বিরক্ত ছিলেন দলের সভাপতি। ‘ছাত্রদের আন্দোলন দমাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেই আন্দোলনে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল বলেই দলটির নেতারা মনে করছেন। যে আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারকে এক বিধ্বংসী পরিণতি দেখতে হয়েছে।

মানবজমিন জানতে পেরেছে, গত ৮ই নভেম্বর ওবায়দুল কাদের শিলং হয়ে ভারতের কলকাতায় পৌঁছান। খবর রয়েছে, তিনি এক বিশেষ স্থানে আয়েসেই দিন কাটাচ্ছিলেন। তবে কীভাবে দেশ ছাড়বেন তার ফন্দি-ফিকির করছিলেন। সবুজ সংকেত আসার পর সড়কপথে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলং পৌঁছান। সেখান থেকে যান কলকাতা। দিল্লি নয়, কলকাতাতেই তিনি অবস্থান করবেন এমনটাই জানা গেছে। ভারত সরকারের কাছে তার জন্য কেউ কেউ লবি করছিলেন। এক্ষত্রে শেখ হাসিনা কোনো আগ্রহ দেখাননি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সরকার পতনের কয়েকদিন আগে থেকে হঠাৎ নীরব হয়ে যান। বলাবলি আছে, আন্দোলন নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কারণে তাকে কথা বলতে বারণ করা হয়েছিল দলের সভাপতির পক্ষ থেকে। এ সময় দলের অন্য নেতারা গণমাধ্যমে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতা নানা মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিবৃতি দেখা যায়নি।

টানা তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে ওবায়দুল কাদের দলেও নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন। এ কারণে দলীয় অনেক নেতাকর্মীও তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ ছাড়া বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে নানা সময়ে বক্তব্য দেয়ায় সাধারণ মানুষের কাছেও বিরক্তিকর চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছিল নানা ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত-এনসিপির জোট নির্বাচন বর্জন করছে!

মাহাথিরের দীর্ঘ ও সফল জীবনের রহস্য

সেন্টমার্টিনে রিপ কারেন্ট ও বিপদজনক বিচ: পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

জুলাই যোদ্ধা সুরভী তাহরিমা মুক্ত!

ওবায়দুল কাদের ভেন্টিলেশনে, অবস্থা সংকটাপন্ন

অনৈতিক প্রস্তাব, রাজিনা হওয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো হয় সুরভীকে

ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

ঢাকায় রহস্যময় দেয়ালচিত্র : সুবোধ

এনইআইআর চালু হচ্ছে আজ, বন্ধ হয়ে যাবে যেসব হ্যান্ডসেট

১০

কঠিনতম মুহূর্তেও রাজনৈতিক শালীনতার দৃষ্টান্ত রাখলেন তারেক রহমান

১১

যেভাবে জানবেন আপনার ভোট কেন্দ্রের নাম

১২

খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি আগেই হয়েছিল? মেডিকেল সাইন্স কি বলে?

১৩

ফয়সাল করিম মাসুদের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দ্য ডিসেন্টের বিশ্লেষণ

১৪

খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে ঢাকার যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ

১৫

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবন

১৬

তারেক রহমান কি পারবেন তিন প্রজন্মের সেতুবন্ধন হতে?

১৭

আই হ্যাভ এ প্ল্যান : তারেক রহমান

১৮

জামায়াতের সঙ্গী হতে যাচ্ছে এনসিপি!

১৯

কেন তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য সুসংবাদ?

২০