সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বছর ঘুরে শরতের শুভ্রতা নিয়ে কাশফুলের দোলায় ঢাকঢোল, শঙ্খ ও উলুধ্বনির সাজ সাজ রবে শুরু হয়ে গেছে পূজার আয়োজন। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতির শেষ পর্বে চলছে এ পুজা উৎসবের অপেক্ষার প্রহর গুনা।
বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসবের শুরু হয় সাধারনত আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গোৎসব হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গা ষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত।
মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গা দেবীকে মর্ত্যলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা পেয়েছে। এরপর ১০ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১২ অক্টোবর এবং ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।
এই দুই দিন সপ্তাহের কোন কোন বারে পড়ছে, তার ওপরই নির্ভর করে দেবীর কীসে আগমন ও কিসে গমন। শাস্ত্র অনুযায়ী সপ্তমী রোববার বা সোমবারে হলে দেবীর বাহন হবে গজ বা হাতি। সপ্তমী শনি বা মঙ্গলবারে হলে দেবীর বাহন হবে ঘোটক বা ঘোড়া। সপ্তমী বৃহস্পতি বা শুক্রবারে হলে দেবীর বাহন দোলা বা পালকি। সপ্তমী বুধবারে হলে দেবীর বাহন নৌকা।
একইভাবে, দশমী রবি বা সোমবার হলে দেবীর বাহন গজ। দশমী শনি বা মঙ্গলবার হলে দেবী বিদায় নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। দশমী বৃহস্পতি বা শুক্রবারে হলে দেবীর গমন হবে দোলা বা পালকিতে। আর দশমী বুধবারে হলে নৌকায় করে কৈলাসে ফিরবেন দেবী।
২০২৪ সালে দেবী দুর্গার দোলায় আগমন এবং গজে গমন। এ বছর ১০ অক্টোবর সপ্তমী পড়েছে বৃহস্পতিবার। তাই দুর্গার আগমন দোলা বা পালকিতে। যার ফল ছত্রভঙ্গ। দোলায় দেবী আসা মানে খুব অশুভ বলে মনে করা হয়। এতে পৃথিবীর ওপর খুব খারাপ প্রভাব পড়ে।
১২ অক্টোবর শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত পড়েছে বিজয়া দশমী। তার মানে মা দুর্গা পুত্র-কন্যাসহ কৈলাসে ফিরবেন গজে বা হাতির পিঠে আসীন হয়ে। যা সমৃদ্ধির প্রতীক। গজ বা হাতি হলো শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্যশ্যামলা হয়।
মন্তব্য করুন