বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দাঁড়িয়ে কখনো কি খেয়াল করেছেন, আপনার পাশের যাত্রীর পাসপোর্টের রং আপনার থেকে আলাদা? এটা নিছক নকশাগত পছন্দ নয়—এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, রাজনীতি, ধর্ম আর অর্থনীতির জটিল সমীকরণ।
মজার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO) পাসপোর্টের রং নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেয়নি। তবুও বিশ্বজুড়ে মূলত চারটি রঙেই সীমাবদ্ধ থেকেছে দেশগুলোর পাসপোর্ট—নীল, লাল বা মেরুন, সবুজ এবং কালো।
নীল: নতুন বিশ্বের প্রতীক
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাসপোর্টের রং নীল। উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি দেশ এই রংকে বেছে নিয়েছে। অনেক দেশের কাছে নীল রং যেন ‘নতুন বিশ্বের’ প্রতীক—স্বাধীনতা আর সম্ভাবনার বার্তাবাহক।
লাল-মেরুন: ইউরোপ ও সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ছাপ
জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় স্থানে আছে লাল বা মেরুন রং। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সাধারণত গাঢ় লাল বা মেরুন পাসপোর্ট ব্যবহার করে। আবার চীন-রাশিয়ার মতো যেসব দেশের অতীত ইতিহাসে সমাজতান্ত্রিক শাসনের ছাপ রয়েছে, তারাও এই রংকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
সবুজ: ধর্মীয় ও আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতিফলন
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অধিকাংশই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে সবুজ রং। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক জোট ECOWAS-ভুক্ত দেশগুলোও এই রংকে আপন করে নিয়েছে।
কালো: বিরলতম রং
সবচেয়ে কম দেখা যায় কালো রঙের পাসপোর্ট। অ্যাঙ্গোলা, চাদ, মালাউইর মতো কিছু আফ্রিকান দেশ এবং নিউজিল্যান্ড তাদের জাতীয় রঙের প্রতীক হিসেবে কালো পাসপোর্টকে বেছে নিয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্নতা
বাংলাদেশে অবশ্য একটি রঙে সীমাবদ্ধ থাকেনি বিষয়টি। সাধারণ নাগরিকদের জন্য সবুজ পাসপোর্ট চালু থাকলেও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে নীল পাসপোর্ট, আর কূটনীতিকদের জন্য বরাদ্দ লাল পাসপোর্ট। অনেক দেশই আসলে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে মূল রঙের হালকা বা গাঢ় শেড ব্যবহার করে থাকে—যা পাসপোর্টকে শুধু ভ্রমণ-নথি নয়, বরং একটি দেশের পরিচয়ের বাহকও বানিয়ে তোলে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, একটি পাসপোর্টের রং শুধু নকশার বিষয় নয়—এটি একটি জাতির ইতিহাস, বিশ্বাস আর মর্যাদার প্রতিচ্ছবি।
মন্তব্য করুন