বিকাশ মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করছে? | bdsaradin24.com
ডেস্ক নিউজ
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১:০০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিকাশ মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করছে?

বিকাশের একচেটিয়া ব্যবসা ও ষড়যন্ত্র: বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করছে?

ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সমালোচিত হচ্ছে। এককভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিকাশ যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা অনেকের মতে প্রতারণার শামিল, যা দেশের সাধারণ মানুষকে ক্ষতির সম্মুখীন করছে।

বিকাশ দীর্ঘদিন ধরে এমএফএস সেবার বাজারে তাদের একক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল খাতে বিকাশের প্রায় ৮০% বাজার অংশীদারিত্ব রয়েছে। তারা তাদের বড় গ্রাহক ভিত্তি এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, বিকাশের প্রভাবশালী অবস্থান এবং মোবাইল অপারেটরগুলোর সাথে বিশেষ চুক্তি থাকার কারণে অন্যান্য এমএফএস সেবাগুলোর প্রচার ও প্রসারে অসুবিধা হয়।
বিকাশের একচেটিয়া ব্যবসা ও ষড়যন্ত্র

বিকাশ অনেক সময় তাদের গ্রাহকদের কম্পিটিটরদের সেবা ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত করতে প্রচারমূলক অফার দিয়ে থাকে, যা একচেটিয়া ব্যবসায়িক আচরণের প্রমাণ। তাছাড়া, তারা বিভিন্ন ধরনের ফি ও চার্জের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে। এর ফলে বিকাশ তাদের গ্রাহকদের জন্য অন্য সেবা প্রদানকারীদের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

বিকাশের ব্যবসায়িক ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো তাদের অত্যধিক চার্জ এবং ফি নীতি। যেখানে ব্যাংকিং লেনদেনের খরচ কম, বিকাশে প্রতি ১ লক্ষ টাকা পাঠাতে খরচ হয় ১৮৫০ টাকা, যা অন্যান্য এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এই ধরনের উচ্চ চার্জের মাধ্যমে বিকাশ অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকাশ তাদের সেবার খরচ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরে, যেমন প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মান বৃদ্ধির জন্য খরচ বৃদ্ধির দাবি। কিন্তু বাস্তবে, তাদের অপারেশনাল খরচ অন্যান্য এমএফএস সেবার তুলনায় অনেক কম। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন তারা এত বেশি চার্জ করছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে?

 

বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রতিযোগীদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারমূলক কৌশল গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, বিকাশ তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এছাড়াও, বিকাশ তাদের গ্রাহকদের কম্পিটিটরদের সেবা ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত করতে তাদের প্রচারণায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ব্যবহার করে থাকে।

 

বিকাশের এ ধরনের একচেটিয়া ব্যবসায়িক নীতি ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গ্রাহক ও বিশেষজ্ঞরা আওয়াজ তুলছেন। তাদের মতে, বিকাশের উচিত গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের চার্জ কমানো এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সুযোগ দিতে হবে, যাতে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন ও সুবিধামত সেবা ব্যবহার করতে পারেন।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এমএফএস খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত বিকাশের একচেটিয়া আচরণ ও ব্যবসায়িক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যথায়, বিকাশের এই মনোপলি ব্যবসা দেশের অর্থনৈতিক খাত এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত-এনসিপির জোট নির্বাচন বর্জন করছে!

মাহাথিরের দীর্ঘ ও সফল জীবনের রহস্য

সেন্টমার্টিনে রিপ কারেন্ট ও বিপদজনক বিচ: পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

জুলাই যোদ্ধা সুরভী তাহরিমা মুক্ত!

ওবায়দুল কাদের ভেন্টিলেশনে, অবস্থা সংকটাপন্ন

অনৈতিক প্রস্তাব, রাজিনা হওয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানো হয় সুরভীকে

ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা হুদার মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

ঢাকায় রহস্যময় দেয়ালচিত্র : সুবোধ

এনইআইআর চালু হচ্ছে আজ, বন্ধ হয়ে যাবে যেসব হ্যান্ডসেট

১০

কঠিনতম মুহূর্তেও রাজনৈতিক শালীনতার দৃষ্টান্ত রাখলেন তারেক রহমান

১১

যেভাবে জানবেন আপনার ভোট কেন্দ্রের নাম

১২

খালেদা জিয়ার মৃত্যু কি আগেই হয়েছিল? মেডিকেল সাইন্স কি বলে?

১৩

ফয়সাল করিম মাসুদের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দ্য ডিসেন্টের বিশ্লেষণ

১৪

খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে ঢাকার যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ

১৫

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবন

১৬

তারেক রহমান কি পারবেন তিন প্রজন্মের সেতুবন্ধন হতে?

১৭

আই হ্যাভ এ প্ল্যান : তারেক রহমান

১৮

জামায়াতের সঙ্গী হতে যাচ্ছে এনসিপি!

১৯

কেন তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য সুসংবাদ?

২০