বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘মাইনাস টু’ বাস্তবায়নের গুঞ্জন দানা বাঁধছে। তবে বিএনপি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব।
দলের নীতি-নির্ধারণী নেতারা বলছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি আরও সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “মাইনাস টু’র মতো কল্পনাগুলো উইশফুল থিংকিং ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরোপুরি আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে নারাজ। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার না চাইলেও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী শক্তি এ ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের কোনো ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনা নেই।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন রাজনৈতিক দল সংস্কারের আলোচনাও ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ‘মাইনাস টু’ তথা দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে তাদের দলে সংস্কার আনার বিষয়টি সামনে আসে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন আর বাস্তবতার এই টানাপড়েনে প্রশ্ন থেকেই যায়—মাইনাস টু বাস্তবায়নের স্বপ্ন কি আদৌ বাস্তবতার মাটি পাবে? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক কল্পনা?
মন্তব্য করুন