জ্বর,সর্দি কাশি হলে আপনি বাইরে থেকে বুঝতে পারবেন কিন্তু মাসিকজনিত রোগভোগের বিস্তার অনেকদূর যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
অনিয়মিত মাসিকের প্রধান ও একমাত্র কারন হল অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমান খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে মেয়েদের মাসিক নিয়মিত রাখার ক্ষেত্রে। দরকার বেশি মিষ্টিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত তেলে ভাজা জিনিস খাদ্যতালিকা থেকে অবশ্য ই বাদ দিতে হবে।
আমাদের মোটামুটি ২৮-৩২ দিনের সাইকেল থাকে। কারোর কারোর ৪০ দিনের ও হয়। শরীরচর্চা একটা খুব গুরুত্বপূর্ন জিনিস। প্রাথমিকভাবে যারা ওবেসিটি অর্থাৎ শরীর স্থূল তারা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভুগলেও যারা রোগা তারাও কিন্তু অনেকক্ষেত্রে এই সমস্যায় ভুগে থাকে।অর্থাৎ রোগা হোক বা মোটা আপনাকে সঠিক শরীরচর্চা আর ডায়েটের মাধ্যমে ইস্ট্রোজেন,প্রোজেস্টেরন আর টেস্টোস্টেরন হরমোন সঠিক ব্যালেন্স বজায় রাখতে হবে।
● ডায়েট চার্টে প্রোটিন বেশি রাখতে হবে, কার্বোহাইড্রেট কম।
● সঠিক ওজন অর্থাৎ না মোটা না রোগা এমন ওজন মেইনটেন করতে হবে।
● ব্যায়াম বা যোগা যাই করেন না কেন দিনে শুধু একবার আধঘন্টা যথেষ্ট। মাথায় রাখবেন অতিরিক্ত শরীরচর্চা মাসিক অনিয়মিত করতে পারে।
আমি আমার রুটিন টা যোগ করছি। চাইলে ফলো করতে পারেন।
আমি রাতে এগারোটার মধ্যে শুয়ে পড়ি। আর উঠি সারে চারটে নাগাদ। তারপর ফ্রেশ হয়ে পাঁচটা থেকে ব্যায়াম। যোগা আমি করি না আমি হেভি এক্সাসাইজ করি। এই ধরনের এক্সাসাইজে প্রচুর ঘাম ছুটবে আর কিছুক্ষন হাতে,পায়ে ব্যাথাও হবে।ছয়টা নাগাদ লাল চা পান করি সাথে সুগার ফ্রি বিস্কিট। দুধ চা জীবন থেকে বাদ দিয়ে দিন। এরপর নয়টা নাগাদ ব্রেকফাস্ট। ব্রেকফাস্টে একটা ডিমের পোঁচ আর বাড়িতে যা ফল থাকে যেমন এখন আমের সময় তো একটা করে আম।আপনি চাইলে দুটো সিদ্ধ ডিম কুসুমসহ খেতে পারেন ফল না থাকলে।দুপুর একটা নাগাদ লাঞ্চ। লাঞ্চ এ বাড়িতে সাধারনত সাদা ভাত,একটা ভাজা,শাক,তরকারি,ডাল,মাছ আর চাটনি থাকে আমাদের। তো একটা থালা তে মাত্র দুবাটি সাদা ভাত, ভাতের দ্বিগুন ডাল, একটা মাছ, তরকারি পরিমানমত আর আমের চাটনি হলে একপিস আম।বিকেল পাঁচটা নাগাদ লাল চা আর সুগার ফ্রি বিস্কিট খেয়ে থাকি। তারপর সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ ছোলা সেদ্ধ হাফ বাটি।আর রাতের খাওয়া নয়টা নাগাদ খাই। রাতে ওটসমিল খাই।আপনি চাইলে সকালের জলখাবারেও ওটসমিল খেতে পারেন।
মোটামুটি এই রুটিন মেইনটেন করুন।দেখুন কে জেতে আপনি না অনিয়মিত পিরিয়ড? চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন।ভালো থাকবেন।
মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এখানে কিছু সাধারণ কারণ উল্লেখ করা হলো:
1. গর্ভাবস্থা (Pregnancy):
2. মেনোপজ (Menopause):
3. স্তন্যপান (Breastfeeding):
4. ওজনের পরিবর্তন (Weight Changes):
5. হরমোনাল অস্বাভাবিকতা (Hormonal Imbalance):
6. চিকিৎসা ও ওষুধ (Medications and Medical Conditions):
7. মানসিক চাপ (Stress):
8. বেশি শারীরিক পরিশ্রম (Excessive Physical Activity):
9. প্রজনন অঙ্গের সমস্যা (Reproductive Organ Issues):
যদি মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যায় এবং আপনি নিশ্চিত নন কেন তা ঘটছে, তবে ডাক্তার বা গাইনোকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা সঠিক কারণ নির্ণয় করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারবেন।
মেয়েদের মাসিক বন্ধ হলে তারা নিচের প্রতিক্রিয়াগুলি অবলম্ব করতে পারে:
চিকিৎসা
ডা. সাহানারা চৌধুরী বলেন, অনিয়মিত পিরিয়ডে রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য হিমোগ্লোবিন লেভেল দেখে মুখে খাওয়ার আয়রন ট্যাবলেট, আয়রন ইনজেকশন, প্রয়োজনে শরীরে রক্ত দিতে হয়।
ব্লিডিং বন্ধ করার জন্য উচ্চ মাত্রার প্রোজেস্টেরন হরমোন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ট্র্যাক্সিল বা ট্র্যানক্সামিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়।
এরপর যে রোগের কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড হচ্ছে তা শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। যেমন- পলিপ বা টিউমার হলে সেগুলো রিমুভ করতে হবে, কোয়াগুলেশন, ওভুলেটরি ডিজঅর্ডার, পিসিওএস থাকলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা এবং ক্যানসরি হয়েছে কি না সেটি শনাক্ত করে চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হবে।
অনিয়মিত পিরিয়ড অনেকগুলো রোগের লক্ষণ। তাই পিরিয়ডের সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ নিয়ম মেনে খেতে হবে। জীবনধারা ও খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, জাঙ্ক ফুড পরিহার করতে হবে, সুষম খাবার, ফল-শাকসবজি খেতে হবে।
মন্তব্য করুন