শ্বাস আছে, তবু কেন একে ‘ব্রেন ডেথ’ বলা হয়?
অনেক সময় আমরা শুনি, কোনো রোগীর শ্বাস চলছে, হৃদপিণ্ডও স্পন্দন করছে, তবুও চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—শ্বাস থাকলে মানুষকে মৃত বলা হয় কেন? এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ব্রেন ডেথ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি।
ব্রেন ডেথ কী?
ব্রেন ডেথ বলতে বোঝায়, মানুষের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে এবং স্থায়ীভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেওয়া। এর মধ্যে শুধু চিন্তা বা স্মৃতি নয়, শ্বাস নেওয়া, অনুভূতি, চোখের প্রতিক্রিয়া, ব্যথা বোঝা—সব ধরনের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই অবস্থা থেকে আর কখনো ফিরে আসা সম্ভব নয়।
তাহলে শ্বাস চলছে কীভাবে?
ব্রেন ডেথ অবস্থায় রোগীর শ্বাস সাধারণত ভেন্টিলেটর বা লাইফ সাপোর্ট মেশিনের সাহায্যে চালু রাখা হয়। এই মেশিন জোর করে ফুসফুসে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়, ফলে বাইরে থেকে মনে হয় রোগী শ্বাস নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের স্বাভাবিক শ্বাস নয়। মস্তিষ্ক শ্বাস নেওয়ার কোনো নির্দেশ দিচ্ছে না।
সহজভাবে বললে, মেশিন খুলে দিলে শ্বাস সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যাবে।
হৃদপিণ্ড কেন চলছে?
হৃদপিণ্ডের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কিছু সময় নিজে নিজে স্পন্দন করতে পারে। যতক্ষণ শরীরে অক্সিজেন পৌঁছায়, ততক্ষণ হৃদপিণ্ড চলতে পারে। ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছানোর কারণেই হৃদস্পন্দন সাময়িকভাবে চলমান থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক ছাড়া এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী নয়।
ব্রেন ডেথ কি কোমা?
না। কোমা ও ব্রেন ডেথ এক নয়।
কোমায় মস্তিষ্ক আংশিকভাবে কাজ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
ব্রেন ডেথে মস্তিষ্কের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি স্থায়ী।
আইন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে
বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আইন অনুযায়ী, ব্রেন ডেথকে সম্পূর্ণ মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ মানুষের জীবন মূলত মস্তিষ্কের উপর নির্ভরশীল। মস্তিষ্ক না থাকলে মানুষ আর মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকে না, শুধু কিছু অঙ্গ যান্ত্রিকভাবে সচল থাকে।
উপসংহার
শ্বাস বা হৃদস্পন্দন থাকলেই জীবন আছে—এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়। ব্রেন ডেথ অবস্থায় শ্বাস ও হৃদস্পন্দন কেবল যন্ত্রের সহায়তায় চলতে থাকে। মস্তিষ্ক যখন স্থায়ীভাবে মারা যায়, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সেই মানুষ আর জীবিত নন। তাই শ্বাস থাকা সত্ত্বেও এই অবস্থাকে ‘ব্রেন ডেথ’ বলা হয়।
মন্তব্য করুন