কর্ণফুলী নদীর পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শিল্প শুধু স্থানীয় উদ্যোগ না, বরং বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের যৌথ ইতিহাসের অংশ। ১৯৮১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটা ছিল তখনকার সময়ের জন্য অনেক বড় একটা পরিকল্পনা—বাংলাদেশ সরকার, জাপান, ডেনমার্ক আর নেদারল্যান্ডস মিলে একসাথে যেটা বাস্তবায়ন করে।
এই জায়গাটা শুধু একটা ফ্যাক্টরি না—এখানে গ্যাস থেকে শুরু করে ইউরিয়া সার তৈরি হয়, আর সেই সার আবার চলে যায় দেশের কৃষিজমিতে। দিনে প্রায় ১,৭২৫ টন ইউরিয়া আর ১,৫০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে এটি দেশের অন্যতম বড় সার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
আনোয়ারার এই শিল্প এলাকা বেছে নেওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ ছিল কার্নাফুলী নদী আর চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান। কাঁচামাল আনা-নেওয়া, গ্যাস সরবরাহ, আর পরিবহন—সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটা ছিল স্বাভাবিকভাবে শিল্পবান্ধব।
KAFCO-এর আরেকটা আলাদা দিক হলো এর ভিতরের জীবন। এখানে শুধু উৎপাদনই না, কর্মীদের জন্য আলাদা আবাসিক এলাকা, স্কুল, ক্লিনিক, এমনকি ছোট একটা কমিউনিটি লাইফও গড়ে উঠেছে। বাইরে থেকে দেখলে এটা একটা ফ্যাক্টরি, কিন্তু ভিতরে গেলে মনে হয় একটা ছোট শহর।
বাংলাদেশে সার শিল্পের কথা উঠলেই সাধারণত রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলো সামনে আসে, কিন্তু KAFCO একটু আলাদা জায়গা দখল করে আছে। এটা একদিকে দেশের কৃষিকে শক্তি দেয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইউরিয়া সার পাঠায়—মানে স্থানীয় চাহিদা আর বৈদেশিক বাজার দুই দিকেই এর ভূমিকা আছে।
তবে এই শিল্পটা সবসময় একভাবে চলে না। গ্যাস সংকট হলে উৎপাদন থেমে যায়—কখনো পুরোপুরি, কখনো আংশিকভাবে। ২০২৬ সালের দিকেও এমন পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
এই ওঠানামার মাঝেও KAFCO টিকে আছে একটা কারণে—বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি এখনো ইউরিয়ার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। তাই এই আনোয়ারার শিল্পটা শুধু একটা কারখানা না, বরং একটা সাপ্লাই লাইনের কেন্দ্রবিন্দু।
সব মিলিয়ে KAFCO-কে শুধু “সার কারখানা” বললে গল্পটা ছোট হয়ে যায়। এটা আসলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে শুরু হয়ে দেশের কৃষি ব্যবস্থার ভিত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা একটা শিল্প গল্প।
মন্তব্য করুন