মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েলঃ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের উদীয়মান তরুণ লোক শিল্পী আশিক বয়াতি।
তার পিতার নাম মোঃনুরে আলম,মাতার নাম মর্জিনা আক্তার। আশিক বয়াতি মাত্র সাত বছর বয়সে তার দাদা জসিম উদ্দিন ফকিরের ও দাদী আনোয়ারা বয়াতির কাছ থেকে লোকজ গানের তালিম নেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট লোক পালা গায়ক আব্দুল কুদ্দুছ বয়াতির কাছে শিষ্যত্ব বরণ করেন গান শিখেন।
আশিক বয়াতির দাদা জসিম উদদীন ফকির ও দাদী আনোয়ারা বয়াতি দুজনেই গ্রামে গঞ্জে লোক পালাগান করতেন। বিশিষ্ট লোক পালা গায়ক কুদ্দুছ বয়াতির সাথে দীর্ঘদিন দোহার হিসেবে ছিলেন আশিক বয়াতির দাদা । মূলত আশিক বয়াতি গানের হাতেখড়ি হয় দাদা জসিম উদ্দিন ও আনোয়ারা বয়াতির কাছেই।
১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তরুণ লোকজ গানের পালা গায়ক আশিক বয়াতি ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে কেন্দুয়ার রাজিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে সে রাজিব দীর্ঘলকূর্শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করে। তারপর গানের জন্য আর লেখাপড়ায় তার মন বসেনি। গানেই তার মন কেড়ে নেওয়ার ফলে কিশোর বয়সেই গানের জগতে গানের তালিম নেওয়া শুরু করেন।
মাত্র ৯ বছর বয়সে কেন্দুয়া উপজেলার বাট্রা গ্রামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এককভাবে গানে অংশগ্রহন ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তারপর থেকে আর থেমে নেই। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজারের অধিক মঞ্চে গান পরিবেশন করেছে। এর মধ্যে গান পরিবেশনের উল্লেখযোগ্য স্থান গুলো হলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঈশা খাঁ সোনার গাও লোক শিল্প জাদুঘরে,ফেনি জেলা শিল্পকলা,নেত্রকোনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গান পরিবেশন করা হয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে বিটিভি,নিউজ টোয়েন্টিফোর, ডিবিসি নিউজে তার গান ও সাক্ষাৎকার প্রচার হয়েছে। নিয়মিত দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, ফেসবুকে, ইউটিউবে গান পরিবেশন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
লোকজ সংস্কৃতির মহুয়া মলুয়া,দেওয়ান মদিনা,রতন বাদশা,ইমরান বাদশা,আলপিনা সুন্দরী,কমলা রানীসহ এ জাতীয় আরও কিচ্ছা পালা পরিবেশন করে চলেছে। ১৯ বছর টগবগে তরুন আশিক বয়াতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গানের মঞ্চ। দেখতে সুঠাম দেহের সুদর্শন যুবক। তিন ভাইয়ের সবার ছোট। ঠাট্টা বিদ্রুপ উপেক্ষা করে একপোয়া আধাপোয়া চালের বিনিময়ে গান করেছেন তিনি। লোকজ সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সে নিয়মিত চেষ্টা করে চলেছেন।
সংসারে অভাব অনটনের কারণে অনেক কষ্ট করে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। গান গেয়ে কোনমতে কিছু আয় রোজগার করে চলতে হয়েছে
এখনো বর্তমানে গানের বায়না না থাকায় কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। ভাটিঞ্চলের দুর্গমপথের কাঁদা মাটির রাস্তা দিয়ে অনেক দূর দূরান্তে গিয়ে গানের অনুষ্ঠান করতে হয়েছে ।
কিছু সংখ্যক মানুষ বিদ্রুপ করলেও আশিক বয়াতি অগনিত মানুষের ভালোবাসায় আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছে বলে জানান।
তার স্বপ্ন পুরণে পরিবারে প্রতিটি সদস্য সমর্থন দিয়েছে।
আশিক বয়াতি একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন-গান নিয়েই বাঁচতে চাই,গানের মাঝেই মরতে চাই, গানের মাধ্যমেই মানুষকে ভালোবাসতে চাই,ভালোবাসা পেতে চাই। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া হল ভক্ত আশেকানদের ভালোবাসা। আগামীদিনের জন্য তিনি সকলের ভালোবাসা,দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
*মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল
কেন্দুয়া-নেত্রকোনা
০১৭১৪-৫২৯৬৮৪
মন্তব্য করুন