অনেকে বলছে, তসলিমা নিজেকে নাস্তিক বলে, কিন্তু হিন্দুদের পুজোয় যায়। হ্যাঁ আমি নাস্তিক, নাস্তিক হয়েও আমি হিন্দুদের পুজোয় যাই। যাই, কারণ অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে আমাকে তারা আমন্ত্রণ জানায় । পুজোর অনুষ্ঠানে আমি বলি, ‘আমি নাস্তিক, আমি হিন্দু নই, আমি হিন্দু, ক্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি, ইসলাম কোনও ধর্মেই বিশ্বাস করি না।’ হিন্দুরাও জানে, যে, আমি ধর্মবিশ্বাসী মানুষ নই, আমি নাস্তিক। আমি নাস্তিক বলে তাদের কোনও আপত্তি নেই, তাদের কোনও অসুবিধে হয় না আমাকে দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করাতে, কোনও অসুবিধে হয় না আমাকে পুজো মণ্ডপের মঞ্চে তুলে সম্বর্ধনা দিতে। কোনও অসুবিধে হয় না আমাকে তাদের ভগবানের বেদিতে তুলতে। আমি প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর উদ্বোধন করি। বিজ্ঞানবিশ্বাসী হিসেবে আমি যে কোনও ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করি, তাদের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করি, নারীবাদী হিসেবে তাদের করভা চৌত, সিঁদুর খেলা, শাঁখা সিঁদুরের সমালোচনা করি। এ কারণে তারা আমাকে বহিষ্কার করেনি, ঘৃণা করেনি, আমাকে মুণ্ডু কেটে নেওয়ার ফতোয়া দেয়নি।
যে মুসলমানরা আমাকে ধিক্কার দিচ্ছে হিন্দুদের পুজোয় যাই বলে, তারা কি হিন্দুদের মতো উদার হতে পারবে? পারবে আমাকে, এক নাস্তিককে, যে ধর্মবিশ্বাসী নয়, যে অন্য ধর্মের মতো ইসলামেরও সমালোচনা করে, তাকে দিয়ে মসজিদের উদ্বোধন করাতে? পারবে আমাকে মসজিদের ইমাম বানাতে যার পেছনে দাঁড়িয়ে পুরুষেরা নামাজ পড়বে? আমাকে কি পুরুষেরা যে মিলাদে উপস্থিত থাকে, সেই মিলাদ পড়াতে দেবে ? তাদের মসজিদ কমিটির নেত্রী করবে আমাকে? না তারা করবে না। তারা শুধু ঘৃণা করবে, তাদের আশেপাশে আমাকে পেলে তারা আমার ”কল্লা কাটবে”। এটিই তারা জানে ভাল।
মন্তব্য করুন