নতুন নিয়মে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ও উৎস কর অপরিবর্তিত থাকলেও আয়কর বাড়বে যেভাবে জেনে নিন-
ধরা যাক,
একজন করদাতার পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। তিনি প্রতি তিন মাসে (২৮০৭*৫)=১৪,০৩৫ টাকা মুনাফা বাবদ আয় করেন। একই হারে মুনাফা পেলে বছর শেষে তাঁর আয় ৫৬,১৪০ টাকা।
👉এই টাকার বিপরীতে তাঁর কাছ থেকে তিন মাস পর ৫% হিসেবে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয় ৭৩৮. ৭৫ পয়সা। বছর শেষে কেটে নেওয়া করের পরিমাণ ২৯৫৫ টাকা।
👉পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, তিনি যখন রিটার্ন দেবেন, তাঁকে এই আয়ের বিপরীতে আর কোনো ধরনের কর দিতে হবে না। তবে বর্তমান নিয়মে সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ আয় চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং এই করকে অগ্রিম আয়কর হিসেবে ধরা হবে। সেই হিসাবে পাঁচ লাখ টাকার জন্য দেওয়া ২৯৫৫ টাকা কর হবে অগ্রিম আয়কর।
✅নতুন করের হিসাব:- ধরা যাক ওই করদাতার
১। নিয়মিত আয় (চাকরি/ব্যবসা)- ৩,০০,০০০/-
২।অন্যান্য আয় (বিভিন্ন বোনাস/বাড়ি ভাড়া/জমি)-৫০,০০০/-
৩।এফডিআর/ব্যাংক মুনাফার আয়-২৫,০০০/-
৪।সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আয় -৫৬,০০০/-
👉মোট আয় (সঞ্চয়পত্র বাদে)-৩,৭৫,০০০/-,পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ওই করদাতাকে কর বাবদ আর কোনও টাকা দিতে হবে না ।
👉বর্তমান নিয়মে সঞ্চয়পত্রের আয় রিটার্নে যুক্ত হলে ওই করদাতার মোট আয় হবে- ৪,৩১,০০০/-, বর্তমান আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী ওই করদাতার আয়,করমুক্ত স্ল্যাব অতিক্রম করেছে ফলে ওনাকে ওই ৫৬,০০০/-টাকার জন্য ১০% হিসাবে ৫,৬০০/- কর দিতে হবে ।
👉এখন কর প্রদানের সময় সঞ্চয়পত্র থেকে পূর্বে কেটে রাখা ২৯৫৫ টাকা অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয় করে বাকি (৫৬০০-২৯৫৫)=২,৬৪৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে ।
অর্থাৎ যেখানে ওই করদাতাকে কোনও কর দিতে হতো না সেখানে তাঁকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫% কর পরিশোধ করতে হচ্ছে ।
👉আবার এই করদাতা যদি মহিলা হন তবে ওনার কর মুক্ত স্ল্যাব ৪,২৫,০০০/- টাকা অতিক্রম করার জন্য ৫,০০০/- টাকা (সকলের জন্য সর্বনিম্ন কর নির্ধারণ করা হয়েছে )কর প্রযোজ্য হবে ,তখন তাকে (৫০০০-২৯৫৫) = ২,০৪৫ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে ।

মন্তব্য করুন