গতকাল বাংলাদেশের মেয়েদের সাফ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচটি দেখার সময় মনে একটা খটকা লাগছিল — মেয়েরা জিতছে ঠিকই, কিন্তু তাদের ফিটনেসে কোথাও যেন একটা বড় ঘাটতি রয়েছে। একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের উত্থাপিত প্রশ্ন এবং গভীর বিশ্লেষণ দেখে সেই ভুল ভাঙল।
আসলে এটা শুধু ফিটনেসের ঘাটতি নয়; এর পেছনের আসল এবং নির্মম সত্যটা হলো পুষ্টিহীনতা। সাফের অন্যান্য দেশের — যেমন ভারত বা নেপালের — মেয়েদের শারীরিক গঠন, পেশিবহুল গড়ন এবং স্ট্যামিনার দিকে তাকালে আমাদের মেয়েদের সঙ্গে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
“পুষ্টিহীন শরীর নিয়ে শুধু মনের জোরে আর কতদিন লড়া যায়?”
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের তুলনায় আমাদের মেয়েরা অনেকটাই শীর্ণ ও দুর্বল কাঠামোর। অথচ এই পুষ্টিহীন শরীর নিয়েই তারা মাঠে লড়াই করছে, রক্ত জল করা পরিশ্রম করছে এবং একের পর এক জয় ছিনিয়ে আনছে। এটা একদিক থেকে গর্বের, কিন্তু অন্যদিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভূমিকা নিয়ে। বাফুফে-র দায়িত্ব কি কেবল মেয়েরা ট্রফি জেতার পর ছাদখোলা বাসে করে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া আর ক্যামেরার সামনে কৃতিত্ব নেওয়া? নাকি মাঠের বাইরেও তাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে?
ট্রফি জয়ের পর ছাদখোলা বাসে উৎসব করাটা আনন্দের, কিন্তু সেই উৎসব তখনই অর্থপূর্ণ হবে যখন পর্দার পেছনের মানুষগুলোর মৌলিক চাহিদা ও পুষ্টি নিশ্চিত হবে। বাফুফে-র এখন সময় এসেছে সস্তা প্রচারণার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নারী ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও পেশাদার ফিটনেসের দিকে নজর দেওয়া। অন্যথায়, এই প্রতিভাবান প্রজন্মটি অকালেই ঝরে পড়বে।
|
২ অগাস্ট, ২০২৬