ক্ষুদে বিজ্ঞানীর উপস্থাপনা চলছিল। নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাখ্যা করছিল সে। ঠিক সেই সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম শিক্ষার্থীকে থামিয়ে দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ম্যাডাম, চলেন।” ফলে শিক্ষার্থীর উপস্থাপনা আর শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবুও তার মুখে ছিল হাসি।
“ডেইলি সান বাংলার ফেসবুক পেইজে শেখ নাসির এর করা প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। এক শিক্ষার্থী অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীলভাবে নিজের উদ্ভাবনের ব্যাখ্যা করছিল। এমনকি ব্যাখ্যার মাঝে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উক্তির উদাহরণও তুলে ধরেছিল সে।‘’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শিক্ষার্থীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি শুধু শুনছিলেনই না, উদ্ভাবনের বিভিন্ন উপকরণও আগ্রহ নিয়ে দেখছিলেন। ঠিক তখনই জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম শিক্ষার্থীকে থামিয়ে দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে অন্যদিকে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানান।
শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। সে তৈরি করেছে পরিবেশবান্ধব একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডাস্টবিন, যা একই স্থানে ফেলা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করে ফেলতে পারে। ভিডিওতে তিনি বেশ ভালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আমি যতটুকু বুঝেছি; আমরা সাধারণত প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট, কলার খোসা—সব ধরনের ময়লা একই ডাস্টবিনে ফেলি। কিন্তু এসব বর্জ্যের প্রকৃতি এক নয়। শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত ডাস্টবিন প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলোকে আলাদা ভাগে বিভক্ত করবে। ফলে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য সহজে সংগ্রহ করা যাবে এবং জৈব বর্জ্যও আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের প্রতি একটি আহ্বান রাখতে চাই—এই শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেওয়া আপনাদেরই দায়িত্ব। যদি এতটুকুও না দিতে পারেন, অন্তত তাদের দেখাতে দিন তারা কী বানিয়েছে, তারা কী করতে চায়। প্লিজ, তাদের থামিয়ে দেবেন না।
অবশ্য মেধাবীদের কেউ থামাতে পারবে না। এখন দেখাতে না পারলেও, তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার জোরে ঠিকই পৌঁছে যাবে গন্তব্যে একদিন। দেশে না থাকলেও চলেন যাবেন বিদেশে। এমনটাই তো হয়।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী তখন উপস্থাপনা করছিল। আত্মবিশ্বাসে ভরা গলায়, চোখে স্বপ্ন নিয়ে বলে যাচ্ছিল নিজের উদ্ভাবনের কথা। এমনকি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের উক্তি টেনে এনেছিল প্রসঙ্গ বোঝাতে। ডা. জুবাইদা রহমান মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন, উপকরণগুলো আগ্রহ নিয়ে দেখছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম শিক্ষার্থীকে থামিয়ে দিলেন। “ম্যাডাম, চলেন।” — এটুকুই যথেষ্ট ছিল উপস্থাপনা শেষ করার সুযোগ কেড়ে নিতে। তবু ছেলেটির মুখে হাসি ছিল।
শিক্ষার্থীটি তৈরি করেছে একটি পরিবেশবান্ধব স্মার্ট ডাস্টবিন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আলাদা করতে পারে। প্লাস্টিক, জৈব বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট — সব আলাদা করে ফেলে একটাই ডাস্টবিন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সহজ কিন্তু কার্যকর সমাধান একটা কিশোরের মাথা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
ফরিদা খানম ম্যাডাম, আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ — এই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আর্থিক সহায়তা না দিতে পারলেও অন্তত তাদের বলতে দিন। দেখাতে দিন। থামিয়ে দেবেন না।
তবে একটা কথা সত্যি — মেধাকে কেউ চিরকাল থামিয়ে রাখতে পারে না। আজ মঞ্চ না পেলে, কাল তারা নিজেদের মঞ্চ তৈরি করে নেবে। দেশে না হলে বিদেশে। এমনটাই তো হয়ে আসছে।
আর এই ব্যর্থতা কিন্তু তাদের নয় — আমাদের।
মন্তব্য করুন