সঞ্চয়পত্রকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে কেন? | bdsaradin24.com
ডেস্ক নিউজ
১৪ জুন ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সঞ্চয়পত্রকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে কেন?

 

সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম।

চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিধবা নারী, গৃহিণী কিংবা প্রবাসীদের পরিবারের অনেকেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মনে হচ্ছে, এই নিরাপদ সঞ্চয়ের পথটিকেই ক্রমশ কঠিন করে তোলা হচ্ছে।

প্রথমত, উৎসে করের চাপ বৃদ্ধি ।

আগে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫% হারে উৎসে কর কাটা হতো, আর তার বেশি হলে ১০%।

এখন সব ক্ষেত্রেই ১০% উৎসে কর কাটার প্রস্তাব বা আলোচনা এসেছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরাও সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বেন।

দ্বিতীয়ত, একই আয়ের ওপর দ্বৈত করের আশঙ্কা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাওয়ার সময় উৎসে কর কাটা হচ্ছে।

এরপর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সেই মুনাফা আবার করযোগ্য আয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হলে অনেক সাধারণ মানুষ এটিকে কার্যত দ্বৈত করের বোঝা হিসেবে দেখছেন।

যদিও কর ব্যবস্থায় সমন্বয়ের বিধান থাকতে পারে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

তৃতীয়ত, ব্যাংক হিসাব, TIN ও রিটার্নের অতিরিক্ত ঝামেলা।

অনেকেই শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য একটি ব্যাংক হিসাব খুলে থাকেন।

সেই হিসাব সচল রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক চার্জ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহন করতে হয়।

এখন যদি বাধ্যতামূলকভাবে TIN নিতে হয় এবং প্রতি বছর রিটার্ন জমা দিতে হয়, তাহলে একজন ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীকে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ঝামেলা, জটিলতা ও খরচের মুখোমুখি হতে হবে।

চতুর্থত, সেবা গ্রহণে ভোগান্তি।

সঞ্চয়পত্র কেনা, মুনাফা তোলা বা ভাঙানোর ক্ষেত্রে এখনও অনেক জায়গায় দীর্ঘসূত্রতা, কাগজপত্রের ঝামেলা ও জটিলতা দেখা যায়।

টিন, রিটার্ন প্রভৃতি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করাকে আরো কঠিন করে তুলবে।

পঞ্চমত, বয়স্ক ও অশিক্ষিত বিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগ।

গ্রামের অসংখ্য মা, খালা, চাচি কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ আছেন, যারা আয়কর রিটার্ন কী বা কীভাবে জমা দিতে হয়, সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না।

তাদেরকে অন্যের সাহায্য নিতে হবে, দালাল বা পেশাদার সেবাদাতাকে টাকা দিতে হবে অথবা বারবার অফিসে ঘুরতে হবে।

এতে তাদের জন্য সঞ্চয়পত্র পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এখন সাধারণ জনগণের প্রশ্ন হলো,

যে মানুষগুলো ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে যান না, শেয়ারবাজার বোঝেন না, বরং কষ্টের টাকা জমিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে চান,নীতিগত পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চাপ কেন তাদের ওপরই পড়বে?

রাষ্ট্রের রাজস্ব প্রয়োজন আছে, করের আওতা বাড়ানোরও প্রয়োজন আছে।

কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যদি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, একজন গৃহিণী, একজন বিধবা নারী বা একজন মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর সঞ্চয়কেই সবচেয়ে বেশি নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে সেটি কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়,একটি সামাজিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়ায়।

আবার কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার সঞ্চয়পত্রের সাথে সরকারি বিল, বন্ড বিক্রির দিকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন বিধায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা এবং ক্রয়ে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনছেন।

সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়াই এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের গুঞ্জন

একমি ল্যাবরেটরিজের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

১৮ জনের মধ্যে ১২ রাষ্ট্রপতিই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগপত্রঃ একটি জটিল এবং ধূর্ত মনস্তাত্ত্বিক দলিল!?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কীভাবে

ফার্মেসী ব্যবসার জন্যে লাইসেন্সসহ যা যা লাগবে

নতুন ফার্মেসি ব্যবসার প্রথম ধাপ: কীভাবে করবেন ড্রাগ লাইসেন্স?

১০

পঞ্চদশ সংশোধনী: কেন এসেছিল, কী বদলেছিল, কেন আবার আলোচনায়?

১১

ইতিহাস ও নিসর্গের অপূর্ব মেলবন্ধন ‘বলধা গার্ডেন’

১২

যে পিৎজা বাঁচাল একটি প্রাণ: ডমিনোজের কর্মীদের ছোট্ট মানবিকতার বড় গল্প

১৩

বন্যা ও পানিতে ডুবে মৃতদের দাফনের নিয়ম

১৪

সোনালী অতীতের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিরাজুল ইসলাম ও রানী সরকার

১৫

হালান্ডকে নিয়ে অজানা কিছু কথা

১৬

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে শেষ আটে নরওয়ে

১৭

মুক্তচিন্তার পথিক: মুস্তাফা মনোয়ার

১৮

পাসপোর্ট এল কেমন করে

১৯

পাসপোর্টের কোন রং দিয়ে কী বোঝায়

২০